ছিলেন ফেরিওয়ালা হলেন রপ্তানিকারক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কর্নেলহাট বাজারের পাশ ঘেঁষে চলে গেছে একটি সরু গলি। এর একেবারে শেষ মাথায় একটি ঘরে বড় একটি চৌবাচ্চায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে ধবধবে সাদা কচুর ছড়া। ছড়ার চামড়া ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত একদল নারী। মাটিতে বসে কোটাকুটি করছেন। পাশাপাশি কয়েকজন তরুণ এগুলো বস্তা থেকে বের করে এক জায়গায় জড়ো করে রাখছেন।
এটি অহিদুল আলমের সবজির আড়ত। এই আড়ত থেকে কাটাছাঁটা সবজিগুলো চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে।
একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে অহিদুল গড়ে তুলেছেন এই আড়ত। একসময় ফেরি করে সবজি বিক্রি করতেন তিনি। নিজের চেষ্টা, পরিশ্রম ও বুদ্ধিতে আজ তিনি একজন রপ্তানিকারক।
যেভাবে শুরু: দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে পড়ার সুযোগ পাননি অহিদুল। খুব ছোটবেলা থেকেই তাঁকে রোজগারে নামতে হয়। দেশ স্বাধীনের পর একসময় নিজেই মাথায় করে সবজি বিক্রি করতেন। ১৯৭৮ সালের দিকে তিনি কর্নেলহাট তরকারির বাজারে আরেকজনের দোকানের সামনে বসার জায়গা করে নেন।
সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন অহিদুল। ঠিক সময়ে দোকান খুলতেন। আর যতক্ষণ বাজারে ক্রেতা থাকত, ততক্ষণ পর্যন্ত খোলা থাকত তাঁর দোকান। ধীরে ধীরে ব্যবসার উন্নতি হতে থাকে।
এরপর নিজেই একটি দোকানের মালিক বনে যান। অহিদুলের দোকান থেকে নিয়মিত সবজি নিয়ে যাওয়া হতো গ্ল্যাক্সো বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মচারী ক্যানটিনের জন্য।
এভাবে একসময় গ্ল্যাক্সোর কর্মচারীদের কাছ থেকে বিদেশে সবজি পাঠানোর ধারণা পান অহিদুল। ১৯৯০ সালে তিনি প্রথম দুবাইয়ে সবজি পাঠাতে শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি পাহাড়তলীর কর্নেলহাট এলাকায় ‘গাউছে ভান্ডার স্টোর’ নামে একটি আড়ত প্রতিষ্ঠা করেন। এখানেই বিভিন্ন স্থান থেকে আনা সবজি সংরক্ষণ, কাটা, ধোয়ামোছার কাজ চলতে থাকে।
কারা কাজ করছেন: অহিদুলের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে গোল হয়ে বসে কাজ করছেন নারীরা। আমেনা বেগম নয় বছর ধরে এখানে সবজি কাটার কাজ করছেন। কেমন আছেন জানতে চাইলে পান চিবোতে চিবোতে কুমিল্লার আঞ্চলিক ভাষায় বললেন, ‘স্বামী-পোলাপাইন লইয়া আল্লাহর রহমতে ভালাই আছি। সাড়ে চার হাজার টাকা ঘরভাড়া দিয়া থাকি।’
আংকারা বেগম প্রায় নয় বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে জড়িত। স্বামী, পাঁচ ছেলেসহ থাকেন কর্নেলহাট এলাকায়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আড়তে কাজ করেন। বেতন পান সাপ্তাহিক ভিত্তিতে।
অহিদুল জানান, প্রায় দেড় হাজার নারী তাঁর আড়তে কাজ করেন। প্রতি কেজি সবজি কাটা বাবদ তাঁরা একেকজন পাঁচ টাকা করে পান।
সবজি সংগ্রহ ও রপ্তানি: যেসব রপ্তানি করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে: ঝিঙে, চিচিঙা, করলা, কাঁকরোল, বরবটি, পটোল, ঢ্যাঁড়স, কচুর লতি, পাইন্যা কচু, কচুর ছড়া, লালশাক, পুঁইশাক, লাউশাক, কাঁঠালের বিচি, জলপাই, কালো জাম, টক বরই প্রভৃতি।
নরসিংদী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, যশোর, বগুড়া, মেহেরপুর, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি থেকে ভালো মানের সবজি সংগ্রহ করে আনা হয় ট্রাকে করে। এসব সবজি যায় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, কানাডা প্রভৃতি দেশে।
অহিদুল সিমার্ক ফিশারিজ ও কোস্টার শিপ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইউরোপে সবজি রপ্তানি করেন। তাঁর আড়তে সবজি কাটা ও ধোয়ামোছার পর সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয় এই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রসেসিং প্ল্যান্টে। সেখানে সবজি প্যাকেটজাত করে হিমাগারে রেখে দেওয়া হয়। এরপর বিদেশ থেকে অর্ডার পাওয়ার পর সেগুলো জাহাজীকরণ (শিপমেন্ট) করা হয়।
আয়ের পরিমাণ: প্রতি মাসে সবজি রপ্তানি করে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মতো আয় হয় অহিদুলের। তবে নিজে সরাসরি রপ্তানি করতে পারলে আরও ভালো আয় হতো। অহিদুলের সহযোগী শাহ আলম বলেন, ‘নিজেরা সরাসরি পাঠাতে হলে অনেক টাকার দরকার। কিন্তু আমাদের কাছে তো এত টাকা নেই।’
অহিদুলের পরিবার: একেবারেই সাদাসিধে গোছের মানুষ অহিদুল (৫০)। স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। থাকেন কর্নেলহাটের পণ্ডিতবাড়ী এলাকায়। তিল তিল করে জমানো টাকায় বানিয়েছেন তিনতলা বাড়ি। স্ত্রী গৃহিণী। ছেলে পাভেল চৌধুরী এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন কাট্টলী মোস্তফা হাকিম কলেজ থেকে। মেয়ে তানজুমান আরা বেগম পড়ে কাট্টলী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীতে।
অহিদুলের জীবনসংগ্রামের শুরুতে তাঁর স্ত্রীই ছিলেন একমাত্র প্রেরণা। আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যেও এতটুকু ভেঙে পড়েননি। আগলে রেখেছেন ঘরসংসার। অভয় দিয়েছেন স্বামীকে। তাই তো অহিদুল সুদিনের স্বপ্ন দেখতে পেয়েছিলেন।
আরও অনেকে: এলাকায় দেশীয় সবজি, ফলফলারি বিদেশে পাঠানোর প্রথম নজির গড়েন অহিদুল। বর্তমানে তাঁর পথ ধরে হাঁটতে শুরু করেছেন হালিশহর, উত্তর কাট্টলী ও দক্ষিণ কাট্টলী এলাকার কিছু ব্যবসায়ী।
স্থানীয় বাসিন্দা, একসময়কার সৌদি-প্রবাসী মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘এই এলাকায় অহিদুল চাচাই প্রথম বিদেশে সবজি রপ্তানি শুরু করেছেন।’ এর আগে এমন চিন্তা কারও মাথায়ই আসেনি।’
অহিদুলের স্বপ্ন: অহিদুল আলম বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ নিজ চেষ্টায় এত দূর এসেছি। কোনো ব্যাংক অথবা কারও কাছ থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা নেইনি। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি কিছু মানুষকে মোটামুটিভাবে চলার সুযোগ করে দিতে পারছি, এটাই আমার সান্ব্তনা। তবে আরও আর্থিক সহযোগিতা পেলে ভালো হতো। তাহলে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে পারতাম। এতে অনেক বেশি মানুষের কাজের সুযোগ করে দেওয়া যেত।’
অহিদুলের আগামী দিনের স্বপ্নগুলো সফল হবে—এই আশা তো করাই যায়।
Collection from prothom alo

Success Kamrun Nahar

এগিয়ে চলেছেন কামরুন্নাহার

‘আমরা এমন একটি সমাজের স্বপ্ন দেখি, যেখানে জনগণ সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে বাস করবে, নারী-পুরুষের সমান অধিকার থাকবে।’ বলছিলেন কামরুন্নাহার লিপি (২৯)।
শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন। এখন তিনি ‘নারী নেত্র কারুপণ্য’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।
সংগ্রামী এই নারীর বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার অনন্তপুর গ্রামে। তাঁর তৈরি শপিং ব্যাগ এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত দেড় শ মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠানে। কামরুন্নাহার বলেন, আত্মপ্রত্যয়ী আর পরিশ্রমী হলে যে কারও পক্ষে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। এই বিশ্বাসই যেন তাঁর সংগ্রামের মূলমন্ত্র।
সংগ্রামী জীবন: নয় ভাইবোনের মধ্যে পঞ্চম কামরুন্নাহার। এতগুলো ভাইবোনের সব চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল না স্কুলশিক্ষক বাবার পক্ষে। তাই ছোটবেলা থেকেই অভাবকে ভালোভাবে চিনেছিলেন। অভাবের সঙ্গে লড়াই করেই পাস করেন এইচএসসি। আর যেন এগোতে পারছিলেন না। জীবিকার তাগিদে ২০০৪ সালে তাই মাসিক ৬০০ টাকা বেতনে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ নেন। দিন-রাত কাজ করতেন। এভাবে দু-তিন বছর এমন পরিশ্রম করার পর বেতন বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার টাকা। কিন্তু কাজ করে স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। বুঝতে পেরেছিলেন, এখানে কাজ করে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন পূরণ হবে না। তাই নিজেই কিছু করার কথা ভাবলেন। সেই মতো ২০০৮ সালে ছাড়লেন চাকরি। সঙ্গে পুঁজি হিসেবে ছিল একসময়ের নেওয়া সেলাই প্রশিক্ষণ।
সম্প্রতি এক সকালে অনন্তপুর গ্রামে কামরুন্নাহারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মুখেই শোনা গেল সংগ্রামী জীবনের কাহিনি।
সেলাই প্রশিক্ষণ থাকলেও নিজের সেলাই মেশিন ছিল না কামরুন্নাহারের। তাই পরিচিত একজনের কাছ থেকে একটি মেশিন ধার নেন। সেই মেশিন দিয়ে আশপাশের পাঁচজন নারীকে সেলাইয়ের কাজ শেখান। একদিন কোনো এক কাজে জেলা শহরে গিয়ে দেখেন ফুটপাতে ছোট ছোট দোকানে কম দামে বাচ্চাদের হাফপ্যান্ট বিক্রি হচ্ছে। আগ্রহ নিয়ে এক দোকানির কাছ থেকে জেনে নিলেন, কত টাকা দিয়ে কোথা থেকে প্যান্টগুলো আনানো হয়। সব জেনে আরও কম দামে সেই প্যান্ট তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন। এতে দোকানিও রাজি হলেন। বাড়ি ফিরে কাজ শুরু করলেন। কিন্তু এভাবে প্যান্ট বিক্রি করে তেমন লাভ হতো না।
একসময় কামরুন্নাহার জানতে পারেন, ঢাকায় কেজিদরে কাপড় বিক্রি হয়। খোঁজ-খবর নিয়ে ঢাকায় গিয়ে সেই কাপড় কিনে আনলেন। ওই কাপড়ে প্যান্ট বানিয়ে মোটামুটি লাভ হতে থাকল। এমনি একবার ঢাকায় গিয়ে তাঁর চোখ পড়ে কাপড়ের তৈরি শপিং ব্যাগে। তিনি খেয়াল করলেন, প্যান্টের চেয়ে এই ব্যাগ বানানো সহজ। সঙ্গে সঙ্গে একটি ব্যাগ কিনে ফেললেন। বাড়িতে গিয়ে ব্যাগটি খুলে প্রথমে নিজে এটি তৈরির কৌশল শিখে নেন। পরে সেই পাঁচ নারীকে শেখান। এরপর শুরু করেন ব্যাগ তৈরির কাজ। স্থানীয়ভাবেই সেই ব্যাগ বিক্রি করে ভালোই লাভ হতে থাকল। ব্যাগের মধ্যে ফোন নম্বর থাকায় সেই নম্বরে ফোন করে অনেকে তা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকল বিক্রি।
বিদেশে গেল ব্যাগ: এরই মধ্যে ভারত ও সৌদি আরবে এই শপিং ব্যাগ বিক্রি করছেন কামরুন্নাহার। ‘আমার তৈরি ব্যাগ নেত্রকোনার অধিকাংশ দোকানে পাওয়া যায়। প্রবাসী কেউ স্থানীয় দোকান থেকে পণ্য কিনলে তা দিয়ে আমার তৈরি ব্যাগে করে বিদেশে নিয়ে যান। ব্যাগের গায়ে আমার মুঠোফোন নম্বর রয়েছে। বিদেশ থেকে সেই নম্বরে ফোন করে আমার কাছে ব্যাগ চাওয়া হয়।’ বলেন তিনি। সৌদি আরব ও ভারতে কিছুদিন পর পর ১৫ থেকে ২০ হাজার ব্যাগ পাঠাচ্ছেন কামরুন্নাহার। ২০১০ সালে প্রথম বিদেশে ব্যাগ পাঠান তিনি। চাহিদা দেখে চটের ব্যাগও তৈরি করা শুরু করলেন। সম্প্রতি ইতালি থেকে চটের ব্যাগের অর্ডার পেয়েছেন। ১৫টি সাইজে (আকার) ব্যাগ তৈরি করছেন কামরুন্নাহার।
নারী নেত্র কারুপণ্য: প্রতিষ্ঠান গড়ার শুরুতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পাওয়ার সুবিধা পেতে উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে ‘নারী নেত্র উন্নয়ন সমিতি’ নামে নিবন্ধন নেন কামরুন্নাহার। ধীরে ধীরে সেলাই প্রশিক্ষণ, স্ক্রিন প্রিন্টসহ নানা কার্যক্রম শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটি আর সমিতি হিসেবেও নেই। গত বছর ‘নারী নেত্র কারুপণ্য’ নাম দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালানো শুরু করেন।
কামরুন্নাহারের প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে অন্তত দেড় শ জন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছেন।
কামরুন্নাহার জানালেন, এখানে কাজ করতে আসা অনেকেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন। এখন আবার পড়াশোনা শুরু করেছেন। তিনি নিজেও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ছেন।
নারী নেত্র কারুপণ্যে কর্মরত ইয়াসমীন জানালেন, প্রায় তিন বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। বেশ ভালোই চলছে তাঁর। এখানে ছয় মাস পর পর আনুপাতিক হারে পারিশ্রমিক বাড়ানো হয়। রেজিয়া বেগম (২১) শুরু থেকেই এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। গত বছর এইচএসসি পাস করেছেন। পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন বলে জানালেন। মুনমুন আক্তার (১৭) বলল, ‘এখানে কাজ করে ভালো লাগছে। এখানে যা পাই, তা দিয়ে পরিবার নিয়ে চলতে পারতেছি। আমি প্রতিষ্ঠানের উন্নতি কামনা করি।’
শুধু ব্যবসা নয়, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস যেমন: স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, নারী দিবস পালন করে নারী নেত্র কারুপণ্য। এসব অনুষ্ঠানে অসহায় দরিদ্র নারীদের সম্পৃক্ত করা হয়।
তাঁদের কথা: নারী নেত্র কারুপণ্য সম্পর্কে স্থানীয় কাইলাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজমুল হক বলেন, কামরুন্নাহার আত্মপ্রত্যয়ী। নিজের চেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন। তাঁর মতো আত্মপ্রত্যয়ী হলে সমাজের চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব। নেত্রকোনা বিসিক শিল্পনগরের উপব্যবস্থাপক শাহ নূরুজ্জামান বলেন, ‘কামরুন্নাহারের প্রতিষ্ঠানটি দেখেছি। তাঁর উদ্যোগের সফলতা কামনা করি।’
স্বীকৃতি: সংগ্রামের স্বীকৃতিও পেয়েছেন কামরুন্নাহার। বিভিন্ন সময়ে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা তাঁকে পুরস্কৃত করেছে।
collection from prothom alo

Learning tips3

ব্লক করুন যেকোনো ওয়েবসাইট

আপনার কম্পিউটারে নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইট যেন না খোলে সে ব্যবস্থা আপনি সহজেই করতে পারেন।এ জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত সাইট ব্লক করতে হবে।ছোট্ট একটা ফাইল সম্পাদনা করেই এ কাজটি করা যায়। কম্পিউটারে নোটপ্যাড খুলুন।ফাইল থেকে ওপেনে ক্লিক করুন। নিচে Files of type থেকে All files নির্বাচন করুন।এবার C:/WINDOWSystem32/drivers/etc ফোল্ডারটি খুঁজে বের করুন।HOSTS ফাইলটি খুলুন। নিচে দেখুন একটা লাইন আছে এমন ‘127.0.0.1 localhost’। এর নিচে লিখুন 127.0.0.2 www.xyzabc.com ( যে সাইট ব্লক করতে চান) এবং সেভ করুন।তাহলে ওই সাইটটি ব্লক হয়ে যাবে এবং আপনার কম্পিউটার থেকে আর কেউ এটায় যেতে পারবে না।
অনেকগুলো সাইট ব্লক করতে চাইলে একইভাবে শুধু 127.0.0.1 এর জায়গায় 127.0.0.2 দিন, আরও করতে চাইলে 127.0.0.3 লিখে সাইটের পুরো ঠিকানা লিখবেন। আনব্লক করতে চাইলে ব্লক করার জন্য যে লাইনটা লিখেছিলেন, সেটা মুছে দিয়ে ফাইলটি সেভ করলেই চলবে।

পাওয়ার পয়েন্টের কিছু শর্টকাট

 এমএস ওয়ার্ড বা এক্সেলের মতো পাওয়ার পয়েন্টেও দ্রুত কাজ করার জন্য শর্টকাট কি ব্যবহার করা যায়। পাওয়ার পয়েন্টে Ctৎl বা Alt-এর সঙ্গে A থেকে Z ব্যবহার করে দ্রুত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যায়। নিচে কিছু শর্টকাট দেওয়া হলো।

Ctrl+A ফাইলের সম্পূর্ণ লেখাগুলো নির্বাচন করা।
Ctrl+B নির্বাচিত লেখাকে বোল্ড করা।
Ctrl+C কপি করা।
Ctrl+D ডুপ্লিকেট লেখা তৈরি করা।
Alt+E লেখাকে মাঝখানে নিয়ে যাওয়া।
Ctrl+F শব্দ খুঁজে বের করা।
Ctrl+G নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা, লাইন বা টেবিলে যাওয়া।
Ctrl+H নির্দিষ্ট লেখাকে পরিবর্তন বা রিপ্লেস করা।
Ctrl+I লেখাকে ডানে তির্যকভাবে দেখানো (ইটালিক)।
Ctrl+J নির্বাচিত লেখাগুলোর সঠিক মার্জিন বা জাস্টিফাই আকারে সাজানো।
Ctrl+K ইনসেট হাইপারলিঙ্কের মাধ্যমে অন্য ফাইলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন।
Alt+L লেখাকে বাম দিকে নেওয়া (লেফট অ্যালাইনমেন্ট)।
Alt+M নতুন একটি স্লাইড তৈরি করা।
Ctrl+N নতুন একটি ফাইল বা প্রজেক্ট তৈরি করা।
Ctrl+O পুরোনো কোনো ফাইল খুলে কাজ করা।
Ctrl+P প্রিন্ট করা।
Alt+Q পাওয়ার পয়েন্ট প্রোগ্রাম বন্ধ করা।
Ctrl+R লেখাকে ডানে নিয়ে যাওয়া (রাইট অ্যালাইনমেন্ট)।
Ctrl+S সব কাজ এবং ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা।
Ctrl+T ফন্ট বা লেখার বাহ্যিক দিক পরিবর্তন করা।
Ctrl+U আন্ডারলাইন।
Ctrl+V পেস্ট করা।
Ctrl+W ফাইল বন্ধ করা।
Ctrl+X নির্বাচিত লেখাকে কেটে নিয়ে যাওয়া।
Ctrl+Y আনডুর কার্যকারিতা বাতিল করা (রিডু)।
Ctrl+Z আনডু করা অথবা আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া।

দিনে ছয় হাজার কদমে সুস্থতা

শরীর সুস্থ রাখতে দ্রুত, না ধীরগতিতে হাঁটবেন—এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকতে পারে। তবে এবার গবেষকেরা বলছেন, প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার বা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক কদমে হাঁটায় মধ্যবয়সী নারীদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। দ্রুত বা ধীরে হাঁটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়, আবার সিঁড়ি দিয়ে কিংবা সাধারণ চলাফেরার মাধ্যমেও তা হতে পারে।
নর্থ আমেরিকান মেনোপজ সোসাইটির জার্নালে এ মাসেই প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধটি। গবেষকেরা বলছেন, মধ্যবয়সে এই শারীরিক পরিশ্রমে ডায়াবেটিস ও বিপাকীয় রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। যদিও অন্য গবেষণায় নিয়মতান্ত্রিক ব্যায়ামকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হূদেরাগ নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই গবেষণায় বলা হয়েছে, দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যে ব্যায়াম হয় তাতেও নারীদের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
গবেষকেরা ব্রাজিলের ৪৫ থেকে ৭২ বছর বয়সী ২৯২ জন নারীর ওপর এই গবেষণা চালিয়েছেন। কদম গণনাযন্ত্রের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেকেরই প্রতিদিনের হাঁটা নথিভুক্ত করেন বিজ্ঞানীরা।
এ সময় তাঁদের কোলেস্টেরল, রক্তের শর্করা পরীক্ষা করে দেখা হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, যাঁরা প্রতিদিন ছয় হাজার বা তারও বেশি কদম ফেলে হেঁটেছেন তাঁদের
ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল, শর্করা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস ও অন্যান্য বিপাকীয় ক্ষতিকর নির্দেশকও কম দেখা গেছে। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি ছিল বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। বিবিসি।

Learning tips2

ই-মেইল একজনের, ব্যবহার করছে আরেকজন?

Hi, I am in trouble. Please send me some money. নিচে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেওয়া। আপনার কোনো বন্ধুর ই-মেইল থেকে হয়তো মেইলটি এসেছে। এ রকম ই-মেইল ইদানীং অনেকের কাছেই আসে। বিশেষ করে ইয়াহু মেইলে মাঝেমধ্যে এ ধরনের মেইল আসে পরিচিত জনের কাছ থেকে। যারা বিদেশে থাকে, তাদের মেইল থেকেই এ ধরনের মেইল আসে বেশি। অনেকে মেইল পাওয়া মাত্র টাকা (ডলার) পাঠিয়ে দেয় ওই ক্রেডিট কার্ড নম্বরে। এই টাকাগুলো চলে যায় হ্যাকারের দখলে। আবার যারা জানে, তারা ই-মেইলটা পাত্তা না দিয়ে মুছে ফেলে।
হ্যাকাররা কারও কারও ই-মেইল ঠিকানা বেদখল (হ্যাক করা) করে এ ধরনের মেইল পাঠিয়ে থাকে। ক্রেডিট কার্ডের তথ্যে নিজেদের কার্ডের নম্বর দিয়ে দেয়। টাকা চলে যায় তাদের অ্যাকাউন্টে।
যারা এ ধরনের ই-মেইল প্রায়ই পায়, তারা বুঝে যায় যে কাজটি হ্যাকারের। যারা নতুন বা প্রথম এ ধরনের মেইল পায়, তারা অনেক সময় বুঝতে পারে না। টাকা পাঠিয়ে পরে বুঝতে পারে। সেই টাকা সাধারণত আর ফেরত আনা যায় না।
হ্যাকাররা প্রথমে কারও আইডি হ্যাক করে ওই আইডির ইনবক্স, সেন্ট আইটেম থেকে কিছু মেইল পড়ে বা কনটাক্ট লিস্ট থেকে কারও কারও মেইলে এ ধরনের মেইল পাঠিয়ে থাকে, যাতে পুরো মেইল বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।
প্রতিকার: কারও ই-মেইলে এ ধরনের মেইল এলে তাকে (যার আইডি থেকে এসেছে) মোবাইল ফোনে, ফেসবুকে বা অন্য কোনো মাধ্যমে জিজ্ঞেস করে নিতে পারেন যে সে এই মেইলটি করেছে কি না।
হ্যাকার যদি তার অন্যান্য মাধ্যমও (ফেসবুক, অন্য ই-মেইল ঠিকানা) হ্যাক করে ফেলে, তাহলে হ্যাকারই আবার অন্য আইডি থেকে উত্তর দেবে। এ জন্য সবচেয়ে ভালো হয় মোবাইল ফোনে জিজ্ঞেস করা বা ভয়েস চ্যাট করে জিজ্ঞেস করা। মেইল বা ফেসবুকে বার্তা দিয়ে জিজ্ঞেস করতে চাইলে মেসেজটি ইংরেজি হরফে বাংলা লিখুন। যেমন, Tumi ki taka cheye amar kache email korecho? তাহলে হ্যাকার যদি বাংলা ভাষা না জানে, তাহলে সে বুঝবে না।
হ্যাকার যদি আপনার আইডি হ্যাক করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলে, তাহলে আপনি যখন আপনার আইডিতে ঢুকতে পারবেন না, তখনই বুঝতে পারবেন আপনার আইডি হ্যাক হয়েছে। আর হ্যাকার যদি আপনার পাসওয়ার্ড জেনে যায় কিন্তু পাসওয়ার্ড পরিবর্তন না করে মাঝেমধ্যে আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে, তাহলে কীভাবে বুঝবেন?
আপনার ই-মেইল বেদখল বা হ্যাকড হয়েছে, এটা হয়তো আপনি বুঝেছেন, কিন্তু হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড জানে? কীভাবে জানবেন যে হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড জানে কি না?
ইয়াহুর ক্ষেত্রে: প্রথমে ইয়াহু মেইলে ঢুকে (লগ-ইন) আপনার নামের ওপর ক্লিক করে Account Info নির্বাচন করুন। পাসওয়ার্ড দিতে বললে আবার পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করুন। এখন নতুন পেজ এলে বাম পাশ থেকে Sign-In and Security-এর সবার নিচের View your recent login activity-এ ক্লিক করুন।
নতুন পেজ এলে দেখতে পাবেন আপনার কম্পিউটারের বর্তমান আইপি ঠিকানা এবং গত কয়েকবার কোন দেশ থেকে, কত তারিখ, কতটার সময়, ব্রাউজার না ইয়াহু মেসেঞ্জার দিয়ে আপনার মেইলে প্রবেশ করা হয়েছে এবং তখন কী কী কাজ করা হয়েছে। ডান পাশে Location থেকে IP Address নির্বাচন করে দিলে দেখতে পাবেন কোন কোন আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ঠিকানা থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা হয়েছে। আপনি যদি সব সময় একই কম্পিউটার থেকে লগ-ইন করে থাকেন এবং একই সংযোগদাতার ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আইপি ঠিকানার চারটি অংশের মধ্যে প্রথম দুটি অংশ একই থাকবে। তখন যদি দেখেন ভিন্ন কোনো আইপি থেকে বা ভিন্ন কোনো সময়ে আপনার মেইলে প্রবেশ করা হয়েছিল এবং ওই আইপি ঠিকানা সম্পর্কে যদি বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে আইপি ঠিকানাটি কপি করে www.ip-adress.com/whois ঠিকানায় গিয়ে টেক্সটবক্সে পেস্ট করে IP Whois বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে জানতে পারবেন ওই আইপি ঠিকানাটি কোন সংযোগদাতার, তাদের ঠিকানা, মেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি। এমনকি একটি মানচিত্রের সাহায্যেও দেখানো হবে কোন জায়গা থেকে ওই আইপি ঠিকানার সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে।
ইয়াহু মেইলের বিভিন্ন সংস্করণ আছে। যেমন—ক্লাসিক, বেটা ইত্যাদি। তাই বিভিন্ন সংস্করণে এই অপশনগুলো বিভিন্ন জায়গায় থাকতে পারে। একটু খোঁজাখুঁজি করলেই হয়তো পেয়ে যাবেন। 

হ্যাকারের হাতে আপনার ই-মেইল ঠিকানা।এখন এটি পুনরুদ্ধার করতে হবে।কীভাবে ফিরে পাবেন আপনার ই-মেইল অ্যাকাউন্ট—তা নিচে দেওয়া হলো।
ইয়াহুর ক্ষেত্রে: ইয়াহুতে ঢোকার (লগ-ইন) সময় যখন ঢুকতে পারবেন না, তখন লগ-ইনের নিচে I can’t access my account-এ ক্লিক করুন। নতুন পেইজ এলে I have a problem with my password নির্বাচন করে Next-এ ক্লিক করুন। নতুন পেজ এলে My Yahoo! ID-এ আপনার ই-মেইল ঠিকানা লিখে Enter the code shown বক্সে নিচে থাকা সাংকেতিক সংখ্যা বা অক্ষর লিখে Next-এ ক্লিক করুন। নতুন পেইজ এলে My alternate email-এ আপনার বিকল্প ই-মেইল ঠিকানা লিখে Next-এ ক্লিক করুন। আপনার বিকল্প ই-মেইল ঠিকানায় একটি মেইল যাবে এবং সেই মেইলে একটি লিংক থাকবে। ওই লিংকে ক্লিক করলে নতুন পাসওয়ার্ড চাইবে, তখন নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার ই-মেইল আইডি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
আপনার ই-মেইল ঠিকানায় যদি বিকল্প ই-মেইল উল্লেখ না করা থাকে বা আপনার বিকল্প ঠিকানাটাও যদি হ্যাকড হয়ে যায়, তাহলে My alternate email-এর নিচের অপশনটি Use my secret questions নির্বাচন করে Next-এ ক্লিক করুন। নতুন পেজ এলে আপনাকে দুটি প্রশ্ন করা হবে (যে প্রশ্নগুলো ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করার সময় নির্বাচন করে দিয়েছিলেন)। প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দিলেই নতুন পাসওয়ার্ড চাইবে, তখন নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার ই-মেইল আইডি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
ই-মেইল অ্যাকাউন্টে অলটারনেটিভ ই-মেইল নামে একটি অপশন থাকে সেখানে আপনার অন্য এক বা একাধিক ই-মেইল ঠিকানা দিন এবং এতে মোবাইল ফোন নম্বর যোগ করুন।
যে ই-মেইল আইডি একবার হ্যাকড হয়েছে, সেটি আর ব্যবহার না করাই ভালো।কারণ, হ্যাকার ওই ই-মেইল আইডির অনেক তথ্য জেনে যায় এবং সে ইচ্ছা করলে আবারও ওই আইডি হ্যাক করতে পারে।  

Salman of Forbes Magazine

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীদের পাহাড়সম অঢেল সম্পদের খবর জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টানো। ৮ অক্টোবরের সংখ্যাটির কথাই ধরা যাক, এর প্রচ্ছদে জ্বলজ্বল করছে বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট ও অপরাহ উইনফ্রের ছবি। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, বিশ্বের অন্যতম ধনী ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তি তাঁরা। কিন্তু পৃথিবীকে অবাক করে দিয়ে ম্যাগাজিনটির চলতি সংখ্যার (১৯ নভেম্বর, ২০১২) প্রচ্ছদে উঠে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খান! খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সালমান অঢেল অর্থবিত্তের মালিক নন, খান একাডেমিও হাজার-কোটি ডলারের কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়। কিন্তু গোটা পৃথিবীর শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর যে স্বপ্ন নিয়ে সালমান এগিয়ে চলেছেন, শেষ পর্যন্ত ফোর্বসও তার স্বীকৃতি না দিয়ে পারেনি।
কিন্তু পৃথিবীতে এত ধনকুবের থাকতে কেন সালমান খান? উত্তর মেলে ফোর্বস-এর অন্যতম সম্পাদক মাইকেল নোয়ারের কাছে। তিনি জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউতে অবস্থিত পুরোনো একটি ভবন এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্কুলে পরিণত হয়েছে বললে খুব একটা বাড়িয়ে বলা হবে না। এই স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা এরই মধ্যে এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে, যদিও স্কুলটি চালাচ্ছেন সর্বসাকল্যে ৩৭ জন। আর এই ৩৭ জনের দলটির মধ্যমণি হচ্ছেন সালমান খান। বলাই বাহুল্য, সেই ‘স্কুল’টি খান একাডেমি। এই খান একাডেমিকে নিয়েই ফোর্বস-এর এবারের প্রচ্ছদকাহিনি, যার শিরোনাম হলো, ‘একজন মানুষ, একটি কম্পিউটার, ১০ মিলিয়ন শিক্ষার্থী: কীভাবে খান একাডেমি শিক্ষাকে আমূল বদলে দিচ্ছে।’
ফোর্বস ম্যাগাজিনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সালমান বলেন, ‘আমি দিব্যি খান একাডেমিকে একটা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারতাম। হয়তো আমি ১০০ কোটি মানুষের কাছে ভিডিওগুলো বিক্রি করে দিতাম। কিন্তু তারপর? আজ থেকে ৫০ বছর পর কী হতো? কিছু কি আদৌ বদলাত?’
মুনাফা নয়, শত শত বছর ধরে চলে আসা শিক্ষাপদ্ধতি বদলে দেওয়াই সালমান খানের লক্ষ্য।
খান একাডেমির জনপ্রিয়তা এখন এতই বেশি যে গত দুই বছরে প্রায় ২০ কোটি বার ওয়েবসাইট থেকে ভিডিওগুলো দেখা হয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ৬০ লাখ শিক্ষার্থী ভিড় জমাচ্ছে ওয়েবসাইটটিতে। স্বেচ্ছাসেবকেরা ২৪টি ভাষায় ভিডিওগুলোর অনুবাদ করছেন।
ফেসবুক ও টুইটারের প্রথম দিকের বিনিয়োগকারীদের একজন, রুশ পদার্থবিদ ইউরি মিলনার বলেন, ‘সালমানই পৃথিবীর প্রথম সুপারস্টার শিক্ষক।’
যে প্রতিষ্ঠানটি কোটি কোটি শিক্ষার্থীর শেখার পদ্ধতিটাই বদলে দিয়েছে, মাত্র দুই বছর আগেও তা ছিল স্টাডিরুমে একা একা বসে কাজে নিমগ্ন থাকা একজন মানুষের স্বপ্ন। তবে এখন স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পালা। সম্প্রতি দি ওয়ান ওয়ার্ল্ড স্কুলহাউস নামের সালমানের লেখা একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। খান একাডেমির পাশাপাশি এতে উঠে এসেছে আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাঁর বৈপ্লবিক চিন্তাভাবনা। পরীক্ষায় গ্রেডিং সিস্টেমের ব্যাপারটিই তিনি উঠিয়ে দিতে চান। এর বদলে তাঁর প্রস্তাবনা হলো, গুণগত দিককে প্রাধান্য দিয়ে সারা বছর ধরে ধীরে ধীরে মূল্যায়নের একটি নতুন পদ্ধতি চালু করা, যাকে তিনি বলছেন ‘রানিং মাল্টি ইয়ার ন্যারেটিভ’।
এসব কিছুই এখন স্বপ্ন। এগুলো বাস্তবে পরিণত হতে কত দিন লাগবে, কেউ জানে না। বাস্তববাদী ও ঝানু ব্যবসায়ীরাও কিন্তু এই স্বপ্নগুলোকে হেসে উড়িয়ে দিতে পারছেন না। তাঁদেরই একজন যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা বিনিয়োগকারী-প্রতিষ্ঠান জিএসভি ক্যাপিটালের সিইও মাইকেল মো। তিনি বলেন, ‘হয়তো সালমান এই মুহূর্তে শিক্ষাক্ষেত্রে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি, আর এর সবকিছুই ঘটে গেছে মাত্র দুই বছরে। তিনি একটি বিপ্লব সৃষ্টি করতে চলেছেন। আমার কেবল একটি বিষয়েই খটকা লাগে; তাহলো, তাঁর কাজ তিনি কোনো একটি লাভজনক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারতেন।’
ব্যবসা কিংবা লাভের প্রশ্নে সালমান তাঁর অবস্থানে অনড়। ‘বিলিয়নিয়ার হওয়াটা এখন পুরোনো ফ্যাশন হয়ে গেছে! মজার ব্যাপার হলো, আমি যখন প্রথমদিকে লোকজনকে খান একাডেমির সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করতাম, তখন আমি বলতাম, এটি যদি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান না হয়ে কোনো ব্যবসা হতো, তাহলে আমি ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে থাকতাম!’
সত্যিই অদ্ভুত! মাত্র দুই বছর পর আজ ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে তাঁর ছবি শোভা পাচ্ছে।

প্রথম আলোকে সালমান
প্রথম আলোকে লেখা এক ই-মেইল বার্তায় সালমান বলেন, ‘ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজের ছবি দেখে আমি অভিভূত হয়ে গেছি। আমি জানতাম, খান একাডেমি নিয়ে একটি লেখা ছাপাবে তারা, কভার স্টোরি হতে পারে, এমন কথাও কানে এসেছিল দু-একবার। কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম, শেষ পর্যন্ত প্রচ্ছদে কোনো বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক কোম্পানির সিইও কিংবা বিলিয়নিয়ারের ছবিই আসবে। অঢেল ধনসম্পদের মালিক না হয়ে ফোর্বস-এর কাছে পাত্তা পাওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল আমার। খান একাডেমির মতো অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে যে ফোর্বস এতখানি গুরুত্ব দিয়েছে, এটি সত্যিই দারুণ আনন্দের ও সম্মানের বিষয়!’ Khan Academy
ফোর্বস ম্যাগাজিনের অনলাইন সংস্করণ অবলম্বনে লিখেছেন অঞ্জলি সরকার
collection from prothom alo 

Who will be next stive jobs

অনেক দিন ধরেই একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা। কে হচ্ছেন পরবর্তী স্টিভ জবস? উত্তর বেছে নেওয়ার তালিকাটি খুব বেশি বড় নয়। কিন্তু প্রশ্নটির নির্ভরযোগ্য উত্তর নেই কারও কাছে ।
২০১১ সালের ৫ অক্টোবর অ্যাপল সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস মারা যাওয়ার পর থেকে এ প্রশ্নটি প্রযুক্তি বিশ্বে অনেক আলোচনা হয়েছে। কারও উত্তর জেফ বেজোস, কারও বা মার্ক জাকারবার্গ আবার কেউ প্রশ্নটির খুব সহজ ভেবে হেঁটেছেন বিশ্লেষণের পথে। আবার অনেকের মতে, প্রযুক্তি বিশ্বে এখনো স্টিভ জবসের মতো মেধাবী, ভবিষ্যত্দ্রষ্টা, ব্যবসায়ী ও রহস্যময় ব্যক্তিত্বের দেখা মেলেনি।

১৯৭৬ সালে নিজেদের বাড়ির গ্যারেজে বন্ধু স্টিভ ওজনিয়াককে নিয়ে ‘অ্যাপল’ প্রতিষ্ঠা করেন স্টিভ জবস। এরপর মাত্র এক দশক না পেরোতেই অ্যাপলকে দাঁড় করিয়ে ফেলেন প্রযুক্তিপণ্যের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে। নিজে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবেন বলে ১৯৮৫ সালে স্টিভ অ্যাপলে নিয়ে এসেছিলেন পেশাদার একজন প্রধান নির্বাহীকে। কিন্তু বোর্ডরুমের রাজনীতির শিকার হয়ে নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান থেকে সেই প্রধান নির্বাহীর কাছেই চাকরিচ্যুত হন তিনি। এরপর মাত্র এক দশকের মাথায় বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি অ্যাপল লোকসান দিতে দিতে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়। ১৯৯৭ সালে আবার তাঁকে অ্যাপলে ফিরিয়ে আনা হয় এবং এরপর স্টিভ শূন্য থেকে আবার অ্যাপল গড়ে তুলতে শুরু করেন। এরই মাঝে তিনি তৈরি করেন পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিও এবং সফটওয়্যার কোম্পানি নেক্সট। ১৯৯৭ থেকে ২০১১—এই ১৪ বছরে স্টিভ জবস অ্যাপলকে শূন্য থেকে গড়ে তোলেন বিশ্বের ১ নম্বর প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হিসেবে। প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা হিসেবে স্টিভ অ্যাপলের দুটি প্রধান ধারা ঠিক করে নেন। একটি হলো পুরোনো কর্মক্ষেত্র অর্থাত্ কম্পিউটার, আর দ্বিতীয়টি হলো ইলেকট্রনিক ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা। ২০০১ সালে আইপডের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায় আসে অ্যাপল। এরপর এতে যোগ হয় আইটিউনসভিত্তিক গানের ব্যবসা এবং এরপর যোগ হয় অ্যাপল টিভি ও আইফোন।

প্রযুক্তিবিষয়ক ব্লগ কাল্ট অব ম্যাকের সম্পাদক ও ‘‘ইনসাইড স্টিভ’স ব্রেইন’’ বইটির লেখক লিন্ডার কেনি স্টিভ জবস প্রসঙ্গে জানান, স্টিভ জবসের ক্যারিয়ার ছিল অদ্ভুত ধরনের। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে এতটা মেধাবী বলে স্মরণ করা হয়নি। তাঁর মতে, স্টিভ জবস অ্যাপলে ফিরে আইপড ও আইফোন বাজারে আনার আগ পর্যন্ত খুব বেশি প্রশংসা পাননি। কিন্তু এ দুটি পণ্য আনার পরই আধুনিক যুগের টমাস আলভা এডিসন হিসেবে প্রশংসিত হতে শুরু করেন তিনি।
স্টিভ জবসের মারা যাওয়ার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। স্টিভ জবসের স্থান কেউ নিতে পারবে কি না, তা সময়ই একদিন বলে দেবে। তবে প্রযুক্তি বিশ্বে স্টিভ জবসের মতো কেউ হতে পারবেন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কমতি নেই। যাঁরা হয়ে উঠতে পারেন পরবর্তী স্টিভ জবস, তাঁদের নিয়ে সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

জেফ বেজোস, অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী
স্টিভ জবসের সমতুল্য হতে পারেন এমন কাউকে যদি মনে করা হয়, তবে সবার প্রথমে আসে অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোসের নাম। স্টিভ জবস যেমন অ্যাপল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি অ্যামাজনের ক্ষেত্রেও একই ভূমিকায় রয়েছেন জেফ বেজোস। তাঁকে স্টিভ জবসের মত ভবিষ্যৎদ্রষ্টা মনে করা হয়। কারণ, স্টিভ জবসের মতোই উদ্ভাবনী পণ্যের দিকে বেজোসের ঝোঁক রয়েছে। সম্প্রতি কিন্ডল ট্যাবলেট বাজারে এনে তিনি তা প্রমাণ করেছেন। প্রযুক্তিবিষয়ক ব্লগ কাল্ট অব ম্যাকের সম্পাদক কেনি বলেন, ‘জেফকে আমি চিনি। তাঁর অসাধারণ হাসি আর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা একদিন স্টিভ জবসের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে বেজোসকে। কিন্তু তাঁর লক্ষ্যে এগোনোর দিক থেকে তিনি যান্ত্রিক। আর স্টিভ জবস হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বেজোসের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, তাঁর প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিপণ্য তৈরির ক্ষেত্রে মূল ঘরানার নয়। অ্যামাজন হচ্ছে অনলাইনে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে কতটা উদ্ভাবনী ক্ষমতার পরিচয় দেখাতে পারবে, তার ওপর নির্ভর করছে জেফ বেজোসের স্টিভ জবস হয়ে ওঠা।

মার্ক জাকারবার্গ, ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী
বাড়ির একটি গ্যারেজে স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অ্যাপল আর জাকারবার্গ ২০০৪ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ডরমিটরিতে তৈরি করেন ফেসবুক। প্রতিষ্ঠালগ্নের দিক থেকে মিল রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের। সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ১০০ কোটি মানুষকে একসঙ্গে বেঁধে ফেলার কৃতিত্ব জাকারবার্গের। এদিক থেকে জাকারবার্গই সম্ভবত স্টিভ জবসের সমতুল্য হতে পারেন। এ ছাড়াও স্টিভ জবসের সঙ্গে মার্ক জাকারবার্গের মিল রয়েছে পোশাক পরার ধরনের ক্ষেত্রেও। জাকারবার্গের ধূসর টি-শার্ট, হুডির সঙ্গে জাকারবার্গের টার্টলনেক ট্রেডমার্কের মিল খুঁজে পান অনেকেই। কেনি জানান, দৃষ্টিভঙ্গিতে স্টিভ জবসের সঙ্গে মার্ক জাকারবার্গের মিল রয়েছে। তাই পরবর্তী স্টিভ জবস হতে পারেন তিনি। তবে স্টিভ জবস হয়ে ওঠার পক্ষে জাকারবার্গের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে তিনি স্টিভ জবসের মতো জাদুকরি কোনো পণ্য মানুষের কাছে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পৌঁছে দিতে পারবেন না। জাকারবার্গকে বরং পর্দার অন্তরালের একজন পরামর্শক হিসেবেই বিবেচনা করা যায়, যিনি পণ্য বিক্রি বা কোনো বিশেষ উপলক্ষে তাঁর তারকাখ্যাতি প্রকাশ করেন।

টিম কুক, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী
ভবিষ্যত্ স্টিভ জবস হয়ে ওঠার বড় সুযোগ পেয়েছেন স্টিভ জবসের স্থলাভিষিক্ত অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক। অ্যাপলের প্রতিটি নতুন পণ্যের উদ্ভাবন আর অনুমোদন তাঁরই হাতে। অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে সবচেয়ে বড় মঞ্চ আর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও তিনি, যা তাঁকে একজন স্টিভ জবস করে তুলতে পারে। ইতিমধ্যে আইফোন৫ বাজারে এনে টিম কুক সবার নজর কেড়েছেন। শিগগিরই আইপ্যাডের ছোট একটি সংস্করণ বাজারে আনতে পারে অ্যাপল। স্টিভ জবস ভবিষ্যত্দ্রষ্টা হিসেবে ছোট পর্দার পণ্যের পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু স্টিভ জবসের সাহচর্য পাওয়া ও ব্যবসায়িক দায়িত্ব পালন করা কুক হয়তো স্টিভ জবসের উল্টো পথে হেঁটেই স্টিভ জবস হয়ে উঠতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে তাঁর সীমাবদ্ধতা হচ্ছে তিনি উদ্ভাবনী ক্ষেত্রের চেয়ে ব্যবসায়িক দিক থেকে বেশি দক্ষ। তিনি হয়তো অ্যাপলের ভবিষ্যত্ তরী ঠিক পথে বাইতে পারবেন, তবে স্টিভ জবসের প্রত্যাশার ভার কতটা সইতে পারবেন, তাঁর ওপরই নির্ভর করবে স্টিভ জবস হয়ে ওঠার বিষয়টি।

জোনাথন আইভ, অ্যাপলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট
অসুস্থতার দরুন যখন অ্যাপল থেকে স্টিভ জবস অবসরে গেলেন, তখন অ্যাপলের ভার নিতে পারেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম নামটি ছিল জোনাথন আইভের। অ্যাপল স্বপ্নদ্রষ্টা স্টিভ জবস ছাড়া অ্যাপল কি তাদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে? একটাই উত্তর, জবস নেই তাতে কী, অ্যাপলের প্রধান নকশা নির্বাহী জোনাথন আইভ তো আছেন। অ্যাপলের বর্তমান পণ্যগুলোর বৈপ্লবিক নকশা আইভের হাতেই করা। প্রচারমাধ্যমের আড়ালে থাকা জোনাথন আইভ ১৯৯৬ সাল থেকে তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৬৭ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া আইভ ২০১১ সালে ‘স্যার’ উপাধি পেয়েছেন। অ্যাপলে যোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের ট্যানজারিন নকশা কোম্পানিতে কাজ করতেন। অ্যাপলে এসে পণ্যের নকশার বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন আইভ। আইভের নকশা করা প্রথম প্রজন্মের আইপড ‘মডার্ন আর্টস কালেকশন’ জাদুঘরে ঠাঁই পেয়েছে। আইভকে যাঁরা কাছ থেকে দেখেন, তাঁদের মতে, তিনি খুবই বুদ্ধিমান ও চুপচাপ। সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেন তিনি। উদ্ভাবনী চিন্তার দিক থেকে তিনি স্টিভের কাছাকাছি যেতে পেরেছেন এবং প্রযুক্তির প্রতি স্টিভ জবসের ভালোবাসার কথা উপলব্ধি করেছেন তিনি।
কিন্তু পরবর্তী স্টিভ জবস হয়ে ওঠার জন্য জোনাথন আইভের ক্ষেত্রে বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে তিনি প্রধান নির্বাহী বা প্রতিষ্ঠাতা নন। ৪৫ বছর বয়সী আইভের পক্ষে স্টিভ জবসের মতো হয়ে ওঠা হয়তো সম্ভব, তবে এ জন্য নতুন করে তাঁকে আরও দ্রুত ছুটতে হবে।

মারিসা মেয়ার, ইয়াহুর প্রধান নির্বাহী
সিলিকন ভ্যালিতে একজন নারীর পক্ষে পরবর্তী স্টিভ জবস হয়ে ওঠা অসম্ভব কিছু নয়। আর তিনি হলেন গুগল ছেড়ে সম্প্রতি ইয়াহুর প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেওয়া মারিসা মেয়ার। ২০০৮ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে বিশ্বের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফরচুন’-এ প্রথমবারের মতো ৫০ জন প্রভাবশালী নারীর মধ্যে জায়গা করে নেন মারিসা মেয়ার। জানান দেন প্রযুক্তি দুনিয়ায় নিজের অবস্থান। এরপর ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালেও এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। ১৯৭৫ সালের ৩০ মে জন্ম নেওয়া মারিসা সিম্বলিক সিস্টেমের ওপর স্নাতক ও কম্পিউটারবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৯৯ সালে যোগ দেন তথ্য খোঁজার বিশ্বসেরা ওয়েবসাইট গুগলে। এই প্রতিষ্ঠানে তিনিই প্রথম নারী প্রকৌশলী। পরে কাজ করেন পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে। গুগলের সার্চ ইঞ্জিন (অনলাইনে তথ্য খোঁজার ওয়েবসাইট), মূল পাতা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তিনি কাজ করেছিলেন গুগলের মানচিত্রসেবায়ও। এর পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে কুপার-হিউইট, ন্যাশনাল ডিজাইন মিউজিয়াম, সানফ্রান্সিসকো মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট, ওয়ালমার্ট ইত্যাদি। ২০০৯ সালে রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী জ্যাকারি ভোগকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি মা হয়েছেন তিনি। নিত্যনতুন উদ্ভাবন আর ব্যবসায়িক দিক থেকে অত্যন্ত সফল মেয়ার কাজ করতে পছন্দ করেন। নতুন চমক দিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে তিনি হয়তো পরবর্তী স্টিভ জবস হয়ে উঠতে পারেন। তবে মেয়ারের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইয়াহুকে বর্তমানে ফেসবুক ও গুগলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহীর পদে এক বছরে চারজন বদল হয়েছেন। এমন একটি পরিস্থিতিতে ইয়াহু নিয়ে মেয়ার কতটা এগোতে পারবেন, তাঁর ওপর নির্ভর করছে মেয়ারের স্টিভ জবস হয়ে ওঠা।

এলন মাস্ক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা
স্টিভ জবসের সঙ্গে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাস্কের মিল পাওয়া যায় আত্মবিশ্বাসে। আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এলন মাস্ক ১৭ বছর বয়সেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। মাত্র ১২ বছর বয়সেই তিনি অবশ্য ভিডিও গেম তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর বয়সের সঙ্গে এলন মাস্ক হয়ে ওঠেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তাঁর নামের পাশে লেখা যায় পেপালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, টেসলা মোটর্স ও মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও। তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের তৈরি মহাকাশ যানে করে মঙ্গলগ্রহ জয় করার স্বপ্ন দেখেন। স্টিভের মতোই আকাশছোঁয়া সম্ভাবনার আকাঙ্ক্ষা তাঁর মনে। তিনি তাঁর কাজকে পছন্দ করেন এবং দলনেতা হিসেবেও সফল। তাঁর পক্ষে স্টিভ জবস হয়ে ওঠা সম্ভব। স্টিভ জবসের মতোই মানুষের পছন্দের কথা ভেবে পণ্য তৈরিতে এলন মাস্কের ভূমিকার কারণে তিনিই পরবর্তী স্টিভ জবস হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু এলন মাস্ককে এ জন্য স্টিভ জবসের মতোই সাধারণ মানুষের পণ্য তৈরির জন্য কাজ করতে হবে।
 collection form news paper

Learning tips1

Increasing running of computer system
কম্পিউটারের র‌্যাম পরিস্কার (ক্লিন) করে এর গতি ধরে রাখা যায়। এ জন্য দুটি কাজ করতে হবে। এর একটি কাজ হলো নোটপ্যাডে।My Computer খুলে Tools-এ যান এবং Folder options-এ ক্লিক করুন। এবার যে উইন্ডো আসবে, সেটির View-এ ক্লিক করে Hide extension for known file type-এর টিক চিহ্ন তুলে দিয়ে OK করুন।
এবার নোটপ্যাডের কাজ কীভাবে করতে হবে দেখে নিন। প্রথমে স্টার্ট মেনুতে গিয়ে নোটপ্যাড খুলুন। এতে লিখুন mystring=(80000000) এবং ডেস্কটপে সেইভ করুন RAM.Vbe নামে। এবার আপনি যখনই সময় পাবেন RAM.Vbe নামের ফোল্ডারটিতে ক্লিক করে র‌্যাম পরিস্কার করতে পারবেন।প্রতিবার প্রায় ৮০ শতাংশ গতি বাড়িয়ে নিতে পারবেন এ পদ্ধতিতে।

 
সিডি থেকে তথ্য পুনরুদ্ধার
অনেক সময় সিডি বা ডিভিডি পুরোনো হয়ে গেলে বা বেশি বেশি চালালে সিডির ফাইলগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন আর সেগুলো কপি করা যায় না। আপনার অনেক দরকারি তথ্য হয়তো কোনো সিডিতে রেখেছেন, কিন্তু সেই সিডি যদি আর না খোলে বা সেই তথ্যগুলো যদি আর পড়া না যায়, তা হলে সবই শেষ।
আপনি চাইলে ছোট একটি সফটওয়্যারের সাহায্যে সেই নষ্ট সিডির ফাইলগুলো কপি করতে পারেন। এর জন্য প্রথমে www.recoverytoolbox.com/cd.html ঠিকানা থেকে মাত্র ৬৫৫ কিলোবাইটের রিকভারি টুলবক্স সফটওয়্যারটি বিনা মূল্যে নামিয়ে (ডাউনলোড) ইনস্টল করে ওপেন করলে দেখবেন আপনার সিডি/ডিভিডি-রম ড্রাইভটি দেখা যাচ্ছে। এখন পরপর দুইবার নেক্সট-এ ক্লিক করলে দেখবেন আপনার সিডির ফাইলগুলো দেখা যাচ্ছে। এখন সবগুলো ফাইল কপি করতে চাইলে বাঁদিক থেকে সবগুলো বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে সেভ করুন। আবার নির্দিষ্ট কিছু ফাইল কপি করতে চাইলে বাঁদিক থেকে নির্দিষ্ট বক্সগুলোতে টিক চিহ্ন দিয়ে সেভ-এ ক্লিক করুন। ফাইলগুলো কপি হওয়ার পর সি ড্রাইভে গিয়ে দেখবেন CDRestored ফোল্ডারের ভেতর ফাইলগুলো সেভ হয়েছে এবং সেগুলো ভালো আছে।
 
পেনড্রাইভ থেকে অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল
 ১০.১ ইঞ্চি বা তারচেয়ে ছোট মনিটরের নেটবুক কম্পিউটারে সাধারণত সিডি বা ডিভিডি-রম ড্রাইভ থাকে না। এখন যদি এগুলোতে অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টলকরতে চান, তাহলে উপায় কী! উপায় হলো এক্সটারনাল সিডি অথবা ডিভিডি-রম ড্রাইভ ব্যবহার করা। এখন সেটি সব সময় হাতের কাছে নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি যেটি করতে পারেন তা হলো, আপনার হাতের কাছের পেনড্রাইভটিকে কম্পিউটার চালু করার উপযোগী বা বুটেবল করে সেটি দিয়েউইন্ডোজ ইনস্টল করা।
এ জন্য প্রথমে আপনার পেনড্রাইভটি কম্পিউটারে যুক্ত করে উইন্ডোজের স্টার্ট মেনু থেকে রান কমান্ডে গিয়ে cmd লিখে এন্টার করুন।নতুন উইন্ডোতে লিখুন DISKPART। তাহলে নতুন আরেকটি উইন্ডো খুলবে। সেখানে LIST DISK লিখে এন্টার করুন।এবারে প্রথমে SELECT DISK 1 লিখুন। তারপর একে একে নিচের সংকেতগুলো লিখেদিন—
CLEAN
CREATE PARTITION PRIMARY
SELECT PARTITION 1
ACTIVE
FORMAT FS=NTFS
ASSIGN
EXIT
এবার এই উইন্ডো মিনিমাইজ করে রাখুন। তারপর উইন্ডোজ সেভেন ডিভিডি-রম ড্রাইভে ঢোকান।ধরে নিই আপনার ডিভিডি-রম ড্রাইভ ও পেনড্রাইভের ড্রাইভ লেটার হলো যথাক্রমে I ও J ।
কমান্ড উইন্ডোতে ফিরে গিয়ে I: CD BOOT Ges CD BOOT লিখুন। এবারে BOOTSECT.exe /NT60 J: লিখে এন্টার করুন। এবারে ডিভিডির সব ফাইল পেনড্রাইভে কপি করে নিন, তা হলেই বুটেবল হয়ে যাবে পেনড্রাইভ এবং সরাসরি পেনড্রাইভ থেকেই ইনস্টল করতে পারবেন উইন্ডোজ সেভেন অপারেটিং সিস্টেম। তবে এই পদ্ধতি উইন্ডোজ এক্সপির জন্য নয়, শুধু উইন্ডোজ সেভেন, এইট ও ভিস্তার জন্য।

 


 

Risk password

Risk Password 2012
প্রযুক্তি গবেষকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বিষয়ে সবার পছন্দের সঙ্গে মিল রেখে চললেও কম্পিউটার পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে স্বাতন্তর্্য থাকা অবশ্যই দরকার। অনলাইনের কোনো ধরনের অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে সবচে বাজে পাসওয়ার্ডের তালিকা শীর্ষে রয়েছে ইংরেজিতে লেখা `পাসওয়ার্ড' শব্দটি। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবল।
ইন্টারনেট নিরাপত্তা সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্প্ল্যাশডাটা চলতি বছরের সবচেয়ে বাজে পাসওয়ার্ডের এ তালিকা প্রকাশ করেছে।
স্প্ল্যাশডাটার তথ্য অনুযায়ী, এখনও হ্যাকারদের জন্য সহজেই অনুমেয় পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার রীতির পরিবর্তন ঘটেনি। ২০১১ সালের তালিকায় থাকা সবচে বাজে পাসওয়ার্ডের শীর্ষ তিনের মধ্যে কোনো অবস্থানগত পরিবর্তন ঘটেনি। ২০১১ সালের মতই এবারেও শীর্ষে রয়েছে `পাসওয়ার্ড'। পরের অবস্থানে রয়েছে `১২৩৪৫৬' ও `১২৩৪৫৬৭৮'।
২০১২ সালের বাজে পাসওয়ার্ড তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে `ওয়েলকাম' `নিনজা', `মাসটাং' ও `পাসওয়ার্ড১'।
স্প্ল্যাশডাটার প্রধান নির্বাহী মর্গান স্লেইন জানিয়েছেন, দুর্বল পাসওয়ার্ডের কারণে তথ্য চুরি হয়ে গেলে বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ তালিকা প্রকাশ করায় সবচেয়ে বাজে পাসওয়ার্ডগুলোর ব্যবহারে মানুষকে সচেতন হবে এবং অনলাইনে দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবে।
মর্গান স্লেইন পরামর্শ দিয়েছেন, বাজে পাসওয়ার্ড তালিকার কোনো পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে তা দ্রুত পরিবর্তন করে নিরাপদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে। চলতি বছরের ইয়াহু, লিংকডইন, ই-হারমোনির মত ওয়েবসাইট হ্যাক করে পাসওয়ার্ড চুরি করেছে হ্যাকাররা। তাই অনলাইনে পাসওয়ার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি।

বাজে পাসওয়ার্ডের তালিকা-
১.password
 ২.১২৩৪৫৬
৩. ১২৩৪৫৬৭৮
৪.এবিসি১২৩
৫.কোয়ার্টি
৬.মাঙ্কি
৭.লেটমেইন
৮.ড্রাগন
৯.১১১১১১
১০. বেসবল
১১.আইলাভইউ
১২. ট্রাস্টনং১
১৩. ১২৩৪৫৬৭
১৪. সানসাইন'
১৫.মাস্টার
১৬. ১২৩১২৩
১৭. ওয়েলকাম
১৮. শ্যাডো
১৯. অ্যাশলি
২০. ফুটবল
২১. জেসাস
২২. মাইকেল
২৩. নিনজা
২৪. মাসটাং
২৫. password১

Virtual Recharge

Information of google in virtual journing
বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগলের রয়েছে আধুনিক এবং সবচেয়ে বড় তথ্যকেন্দ্র (ডেটা সেন্টার)। তথ্য খোঁজা এবং নানা ধরনের অনলাইনসেবা প্রদানকারী এ সংস্থাটির প্রতিনিয়তই প্রয়োজন হয় নানা ধরনের তথ্য আদান-প্রদানের। গুগলের তথ্যকেন্দ্র সাধারণ ব্যবহারকারীদের দেখার কোনো সুযোগ ছিল না। সম্প্রতি গুগল সে সুযোগ করে দিয়েছে। তথ্যকেন্দ্রটির অভ্যন্তরের নানা বিষয় সম্প্রতি ভার্চুয়াল ভ্রমণের সাহায্যে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে গুগল।
কীভাবে সারিবদ্ধভাবে রয়েছে গুগলের সার্ভার, কুলিং সিস্টেমের জন্য রাখা ব্যবস্থা, কয়েক মাইলজুড়ে থাকা ইন্টারনেট কেব্লে এমন সব বিস্ময়কর কার্যক্রম দেখা যাবে ভার্চুয়াল ভ্রমণের মাধ্যমে। এ ছাড়া দেখা যাবে, যাঁরা বিশাল এ তথ্যকেন্দ্রগুলো পরিচালনা করছেন তাঁদেরও। উত্তর ক্যারোলাইনা থেকে শুরু করে ফিনল্যান্ড পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত তথ্যকেন্দ্রের বাহ্যিক চিত্রও দেখা যাবে এ ভার্চুয়াল ভ্রমণে। তথ্যকেন্দ্র সম্পর্কিত নানা তথ\্য পাওয়া যাবে www.google.com/about/datacenters ঠিকানায়। এ ছাড়া আগ্রহীরা ভার্চুয়াল ভ্রমণ করতে পারবেন এ www.google.com/about/datacenters/gallery ঠিকানায় গিয়ে।

Learning Tips

এমএস ওয়ার্ডের কয়েকটি শর্টকাট
Ctrl+N = নতুন কোনো ডকুমেন্ট খোলার জন্য।
Ctrl+O = আগে তৈরি করা কোনো ফাইল খোলার জন্য।
Ctrl+P = ডকুমেন্ট প্রিন্ট।
Ctrl+Q = প্যারাগ্রাফের মাঝে স্পেসিং করার জন্য।
Ctrl+R = টেক্সটকে রাইট এলাইনমেন্ট করা।
Ctrl+S = ফাইল সেভ।
Ctrl+T = ইনডেন্ট পরিবর্তন করার জন্য।
Excel Tips
হিসাব করার সফটওয়্যার এমএস এক্সেলে যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ—গাণিতিক সব রকমের কাজকর্ম খুব সহজেই করা যায়। যেকোনো কঠিন গাণিতিক কার্যাবলিকে সূত্র প্রয়োগের মাধ্যমে সহজ করা যায়। এক্সেলে গুণ ও ভাগ করা একেবারেই সহজ। প্রথমে একটি এক্সেল ওয়ার্কশিট খুলুন। আপনার প্রয়োজনীয় সংখ্যা বা ডেটা লিখুন। গুণ ও ভাগ দুই পদ্ধতিতে করা যায়। একটি হলো সূত্র প্রয়োগ করে এবং অপরটি সরাসরি।
গুণফল: A1 থেকে A5 ফিল্ড পর্যন্ত ৫, ১০, ১৫, ২০, ২৫ লিখুন। এরপর B1 থেকে B5 ফিল্ড পর্যন্ত ২, ৩, ৪, ৫, ৬ লিখুন। এবার C1 ফিল্ডে কারসর রেখে লিখুন =Max(A1*B1)। এন্টার করুন। ফলাফল ১০ দেখা যাবে। এবার C1 ফিল্ডে কারসর রেখে মাউস নিচে ধরলে + চিহ্ন আসবে। মাউস ওই অবস্থায় ধরে টেনে C5 ফিল্ড পর্যন্ত এনে ছেড়ে দিন অন্যান্য ফলাফল অর্থাৎ ৩০, ৬০, ১০০, ১৫০ দেখা যাবে।
আবার অন্য নিয়মেও এ কাজ করা যায়। A1 থেকে A5 ফিল্ড পর্যন্ত ৫, ১০, ১৫, ২০, ২৫ লিখুন। তারপর B1 থেকে B5 ফিল্ড পর্যন্ত ২, ৩, ৪, ৫, ৬ লিখুন। এরপর C1 ফিল্ডে কারসর রেখে টাইপ করুন = 5*2 এবং এন্টার করুন। ফলাফল বের হবে। এভাবে আলাদা আলাদাভাবে লিখে বাকিগুলোর গুণফল বের করা যাবে।

ভাগফল: A1 থেকে A5 ফিল্ড পর্যন্ত ১০০, ২৫০, ৩০০, ৩৫০, ৫০০ লিখুন। এরপর B1 থেকে B5 ফিল্ড পর্যন্ত ৫, ১০, ৫, ১০, ২৫ লিখুন। এরপর C1 ফিল্ডে কারসর রেখে লিখুন = A1/B1 এবং এন্টার করুন। ফলাফল ২০ দেখা যাবে। এবার C1 ফিল্ডে কারসর রেখে মাউস নিচে ধরলে + চিহ্ন এলে মাউস ওই অবস্থায় ধরে টেনে C5 ফিল্ড পর্যন্ত এনে ছেড়ে দিন অন্যান্য ফলাফল তথা ২৫, ৬০, ৩৫, ২০ দেখা যাবে।
বিকল্প নিয়ম: A1 ফিল্ড থেকে A5 ফিল্ড পর্যন্ত ১০০, ২৫০, ৩০০, ৩৫০, ৫০০ লিখুন। তারপর B1 থেকে B5 ফিল্ড পর্যন্ত ৫, ১০, ৫, ১০, ২৫ লিখুন। এবার C1 ফিল্ডে কারসর রেখে টাইপ করুন =100/5 এবং এন্টার করুন। ফলাফল বের হবে। এভাবে আলাদা আলাদাভাবে লিখে বাকিগুলোর ভাগফল বের করা যাবে
Gmail check without Internet connection
ইন্টারনেটে কাজ করছেন। হঠাৎ কোনো কারণে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল বা ইন্টারনেটের গতি খুব ধীর হলো। কিন্তু তখনই আপনার জিমেইলে আসা ই-মেইল দেখা খুবই জরুরি। কী করবেন? জিমেইলে ‘অফলাইন মোড’ নামে একটি সুবিধা আছে, যেটা সক্রিয় করে রাখতে পারেন। তাহলে অফলাইনেও জিমেইল দেখতে পারবেন। অফলাইন মোড সক্রিয় অ্যাকটিভ করার জন্য প্রথমে ওয়েবসাইট দেখার জন্য গুগল ক্রোম সফটওয়্যার কম্পিউটারে ইনস্টল করে নিতে হবে। এখন http://goo.gl/yPOg3 ঠিকানার ওয়েবসাইটে গিয়ে ওপরে ডান পাশ থেকে জিমেইলে সাইনইন করুন। তারপর ওপরে ডান পাশ থেকে Add to Chrome-এ ক্লিক করুন। ছোট একটি সফটওয়্যার ইনস্টল করতে বললে ইনস্টল করুন। এখন ওপরে ডান পাশ থেকে Launch App-এ ক্লিক করুন। নতুন পেজ এলে Allow offline mail নির্বাচন করে Continue-এ ক্লিক করুন। এখন অফলাইন মোডে আপনার জিমেইলের ইনবক্স দেখতে পাবেন। এই পেজই হলো অফলাইন মোডে জিমেইল। সম্পূর্ণ জিমেইল, অর্থাৎ ইনবক্স, আউটবক্স, সেন্ট মেইল, ড্রাফটস, ক্যালেন্ডার, ডক্স, স্প্রেডশিট ইত্যাদি দেখতে চাইলে বা সম্পাদনা করতে চাইলে ওপরে ডান পাশে Menu-তে ক্লিক করুন। কারও কাছে ই-মেইল পাঠাতে হলে Compose-এ ক্লিক করে পাঠাতে পারবেন। Compose-এ ক্লিক করে মেইলটি লিখে Send-এ ক্লিক করলে আপনার ই-মেইলটি যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে আউট বক্সে থেকে যাবে। যখনই আপনার ব্রাউজার ইন্টারনেট কানেকশন পাবে, সঙ্গে সঙ্গে আপনার মেইলটি অটো চলে যাবে।
এখন থেকে আপনি ইন্টারনেটে কাজ করার সময় যদি কখনো আপনার ইন্টারনেট সংযোগ চলে যায় বা ইন্টারনেটের গতি খুব কম থাকে, তাহলে আপনার জিমেইল অটো অফলাইন মোডে চলে যাবে এবং আপনি ওপরে Menu-তে ক্লিক করে জিমেইলের সবকিছু চেক করতে পারবেন। 
 

Introduce with blog writer

I m Raza Khalad Mahmud.
Date of Birth 1984
Education=Information Technology, Arabic studied, Accounting, Drawing, Bangla.
Object= Service of people

About Life Power

1. Education
2. Family
3. Social
4. Adda
5. Journey
6. IT information
7. Training
8. World Information
9. Economical Information
10. Ex-port Information
Etc