ভালো ঘুমের ৭ কারণ


শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করেএর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুনিদ্রাবয়সভেদে ঘুমের সময়ের তারতম্য হয়একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্যসুস্থ, স্বাভাবিক জীবনযাপনে সুনিদ্রার কোন বিকল্প নেইদীর্ঘদিনের অনিদ্রা বা অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস মানুষকে ধীরে ধীরে এমন একটি স্তরে নিয়ে যায়, যেখান থেকে ফিরে আসতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়তাই প্রথম থেকেই সচেতন হওয়া ভালকারও কারও ঘুমের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছেসে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে তবেই সুনিদ্রা নিশ্চিত করতে হবেএ জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি টিপস দিয়েছেনসেগুলো তুলে ধরা হলো:
    প্রতি রাতে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া ও ঘুমানোর অভ্যাস করা উচিতভোরেও একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ঝরঝরে রাখবে শরীর ও মনকেরাতে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া ও ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসে শরীর যতটা সতেজ হয়, তা আর কোন অভ্যাসে বোধ হয় হয় নাতার সঙ্গে তো শরীরচর্চা, হাঁটা, নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস ইত্যাদি রয়েছেইশোবার ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘুম না এলে, হাল্কা কোন কাজ করুন, যাতে ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটেবই পড়তে পারেনএকটু ক্লান্ত হলে, এমনিতেই ঘুম চলে আসবে
   খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজর দিতে হবেপেট খালি রেখে বা একেবারে ভরপেট খেয়ে ঘুমাতে যাবেন নাকারণ, দুই ক্ষেত্রেই অস্বস্তিতে ঘুম ভাঙাটা স্বাভাবিকঘুমানোর আগে নিকোটিন, ক্যাফেইন (চা, কফি ইত্যাদি) জাতীয় কিছু গ্রহণ করার অভ্যাসে ঘুমের চরম ব্যাঘাত ঘটেঅ্যালকোহল তো কখনও নয়তাই এগুলো পরিহার করা বাঞ্ছনীয়রাতে যাতে ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে যেতে না হয়, তাই ঘুমানোর ঠিক আগে পানি পান না করাই ভালআগে তরল জাতীয় কিছু পান করলেও, তা পরিমাণ বুঝে পান করা উচিত
    ঘুম না এলে, ১০০ থেকে ১ পর্যন্ত উল্টো গোনা আরম্ভ করতে পারেনতবে তার সঙ্গে মস্তিষ্ক ও পুরো শরীরকেও শিথিল হওয়ার নির্দেশ দিতে হবেঅর্থাৎ, মেডিটেশনের মাধ্যমে নিজের ঘুমকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনঘুমানোর আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করাও ভাল অভ্যাসবেডরুমে পছন্দের রঙের হাল্কা ডিমলাইট জাতীয় বাল্ব লাগানো যেতে পারেঘুমানোর আগে টেলিভিশন দেখা বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মোবাইল, আইফোন, আইপ্যাড জাতীয় ডিভাইস) ব্যবহারের অভ্যাস ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়একই খাটে দুজন ঘুমালে, উভয়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখুনএমন বিছানায় ঘুমাতে হবে যা শরীরের জন্য পরবর্তী সময়ে কোন হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়নরম ফোমের ম্যাট্রেস পরিহার করাই ভালএ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে
   দিনের বেলায় ঘুমের সময়টাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে১০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি না ঘুমানোই ভালতবে খাটে শুয়ে বিশ্রাম নেয়া যেতে পারেকারণ, দিনে ঘুমানোর অভ্যাসে রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে
    প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রম হয়, এমন কিছু কাজ করুনব্যায়াম, হাঁটা, জগিং, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, বাগান করার অভ্যাসগুলো আপনার মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা আনবেপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি খরচে শরীরও ক্লান্ত হয়ে পড়বেআর ঘুমটাও হবে প্রগাঢ়
  মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুননিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ওপরে বর্ণিত অভ্যাসগুলো রপ্ত করে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করুনকারণ, রাতে আপনি কিছুই করতে পারবেন নাতাই দুশ্চিন্তার বোঝা টেনে লাভ তো শূন্যসেটা মনকে বোঝানজীবনটাকে সুশৃঙ্খলভাবে গুছিয়ে যাপন করার বিকল্প নেইগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর তালিকা তৈরি করে একটা একটা করে সম্পাদন করুনবাকি থাকা কাজগুলো নিয়ে ভাবার কোন প্রয়োজন নেইপরের দিনের তালিকায় সেগুলো সংযোজন করুনএভাবে একটি করে দিন পার করুনব্যস্ত থাকুনদরকার হলেই কাজের ফাঁকে একটি করে ছোট বিরতি নিনএকটু বিশ্রাম নিতে পারেনভোরে উঠতে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া অ্যালার্মের সাহায্য না নেয়াই ভাল
   এতকিছুর পরও যদি নিদ্রাহীনতার সমস্যা থেকে পরিত্রাণ না পান, তবে একজন ভাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুনএকান্ত বাধ্য না হলে ঘুমানোর জন্য ওষুধ সেবন করবেন নাআর চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করলেও, তা অভ্যাসে পরিণত করবেন নাকারণ, প্রাকৃতিকভাবেই মানুষ এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে
Collection from Manabzamin

পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত মধুটিলা ইকোপার্ক-মহামায়া


প্রকৃতি সান্নিধ্য পেতে কার না ভালোলাগেতাইতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে অনেকেই ছুটছেন প্রকৃতির কাছেএ সংক্রান্ত আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন- শেরপুর থেকে মো. মেরাজ উদ্দিন জানান, পবিত্র ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড়ে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের মধুটিলা ইকো পার্ক মুখরিতপ্রকৃতির সান্নিধ্যে ছুটে এসেছেন অনেকেদেশের উত্তর সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড় অবস্থিতএ সৌন্দর্যকে ঘিরে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য নালিতাবাড়ীর মধুটিলায় বনবিভাগ গড়ে তুলেছে চমৎকার এক ইকোপার্কএ ইকোপার্কে আসলে প্রাণ জুড়িয়ে দেয় পাহাড়ি সুন্দর ও শান্ত পরিবেশএখানে একবার আসলে বারবার মন টানে এ সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে
বাংলাদেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি গারো পাহাড়বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন শেরপুরের তিনটি উপজেলার বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে অনুচ্চ এই পাহাড় শ্রেণীআরো আছে হিজল-তমাল, শাল-শেগুনের শ্যামল ছায়ায় ঢাকা নয়ানাভিরাম বনাঞ্চলতারই মাঝে গারো-কোচসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর বাড়িঘরশান্ত প্রকৃতির সেই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য বনবিভাগ এখানে গড়ে তুলেছে চমৎকার এক ইকোপার্কজেলার নালিতাবাড়ী উপজেলাধীন গারো পাহাড়ের মধুটিলায় ৫শ একর বনভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই ইকোপার্কপ্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে নয়নকারা একটি গেইট, রেস্ট হাউজ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, পানির লেক, শিশু পার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা, প্যাডেল বোর্ড, হাতি, কুমির, হরিণ, বাঘ, সিংহসহ বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য, স্টার ব্রিজ ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণপর্যবেক্ষন টাওয়ারের উপরে উঠলে সমস্ত গারো পাহাড় অতি সহজেই চোখের সামনে ভেসে উঠেদেখা যায় ভারতীয় সীমান্তবর্তী অঞ্চলকেআর এ সৌন্দর্যকে উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু বেড়াতে আসেন এখানেবিশেষ করে শুকনো মৌসুমে প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় করেন এখানেসৌন্দর্য পাগল মানুষেরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটিয়ে যান কিছুটা সময়নয়নকাড়া এ সৌন্দর্য বারে বারে পিছু টানে তাদেরকেতাই এখানে আসলে কেউ সহজে যেতেই চায় নাকেউ কেউ সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছরই বেড়াতে আসেন এখানেশুকনো মৌসুমে ছুটির দিনে বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারে এখানে দর্শনার্থীদের ঢল নামেদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত বাস-কোচ মাইক্রোবাস যোগে হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে আনন্দ উপভোগ করতে আসছেনদর্শনার্থীদের দাবি এ ইকোপার্কটিকে আরো উন্নয়ন করা হলে এটি দেশের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে  ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার পারভিন জানান, তার এ জায়গাটা খুব ভালো লেগেছেএই জায়গাটা ছেড়ে তার যেতে ইচ্ছে করছে নাশেরপুর জেলা শহরের গৌরীপুরের শেখ শাহরিয়ার আহম্মেদ শাকির জানান তারও এ জায়গাটা খুব ভালো লেগেছেতবে সে আরো সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার দাবি জানায়জামালপুর থেকে আগত শিক্ষক জাহঙ্গীর আলম জানান, এ ইকোপার্কটিকে আরো উন্নয়ন করে দেশের প্রথম শ্রেণীর পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভবআমরা সরকারের কাছে এটিকে আরো উন্নয়ন করার জন্য দাবি জানাইএদিকে এই ইকোপার্ককে ঘিরে স্থানীয় লোকজন তাদের আয়ের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেতারা এখানে স্থানীয় উপজাতীয়দের হাতের তৈরি পণ্যের দোকান সাজিয়ে তুলছেকয়েকজন দোকানি জানান, তারা এখানে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে সুখে-শান্তিতে সংসার চালাচ্ছেশিশু করিম জানালো, সে শুধু পানি বিক্রি করে মাসিক প্রায় ৩ হাজার টাকা আয় করে
দর্শনার্থীদের এই ইকোপার্কটি নজর কাড়তে সক্ষম হলেও এখানে আসার জন্য শেরপুরের ঝিনাইগাতীর তিনআনী বাজার থেকে মধুটিলা ইকোপার্ক পর্যন্ত রাস্তাটির নন্নী বাজার পর্যন্ত রাস্তার দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছেফলে যাতায়াতে দর্শনার্থীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছেদর্শনার্থীদের দাবি দ্রুত এ সড়কটির সংস্কার করা হোকএর ব্যাপারে শেরপুর থেকে আগত শিশু শেখ সঈদ আহাম্মেদ সাবাব জানায়, তার এখানে আসতে খুব কষ্ট হয়েছেতাই তাড়াতাড়ি রাস্তাটি ভালো করা দরকারময়মনসিংহ বনবিভাগের নালিতাবাড়ী মধুটিলা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, সড়কটি উন্নয়নের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবেইতিমধ্যে এ ইকোপার্কটিকে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছেএটিকে আরো উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছেএখান থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ২৫-৩০ লাখ টাকা রাজস্ব পায়প্রতিবছর রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাচ্ছেএ এলাকার সৌন্দর্য প্রেমী মানুষের প্রত্যাশা, সৌন্দর্যে ম-িত এই ইকোপার্কটির আরো উন্নয়ন করে পরিণত করা হবে দেশের বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্রে
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) থেকে আমিনুল হক জানান, চট্টগ্রামের রূপরাণী মীরসরাইয়ের মহামায়া লেক এলাকায় এবার ইকোপার্ক ও পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য ইজারা প্রদান করা হয় মাত্র কয়েকদিন আগেইজারাপ্রাপ্ত মেসার্স আহসান ট্রেডিং ইতিমধ্যে সেখানে গেইট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যক্রম শুরু করেছেএছাড়া পাবলিক টয়লেট, পার্কিং, ফুডকোড, রেস্তোরাঁ, এবাদতখানা নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে তাই নির্মাণাধীন উন্নয়ন কাজের চলমান প্রক্রিয়ার জন্য পর্যটকরা যথার্থ বিনোদন না পেলে ও লেকের পাড়ে ও বোটে ঘুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদের দিন বিকেল থেকে দিনভর আগন্তুকদের আনাগোনায় মুখরিত পুরো লেক এলাকাদূর থেকে শোনা যায় অপরূপ ঝর্ণার নূপুর ধ্বনি, পাহাড়িয়া সবুজ গাছের সমারোহ অতিথি পাখিদের কলতান কার না মন জুড়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ যে কেউ মুগ্ধ হয় মহামায়া প্রকল্প দেখেসে যেন সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছেঈদ পরিবার-পরিজন নিয়ে অপরূপ এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন আসছে হাজার হাজার দর্শনার্থী
চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে দেড় কিলোমিটর পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে এ স্পটের অবস্থাননীল আকাশের বিশালতার নিচে সবুজের সমারোহএ যেন প্রকৃতির লীলা খেলাদুপাশে থাকা বনাঞ্চলের দিকে তাকালে হয়তো সহজেই দেখা যায় অনেক জীব বৈচিত্র্যশেষ বিকেলের সূর্যের আলো যখন লেকে পড়ে তখন দূর থেকে মনে হয় পুরো প্রকল্পটির অপরূপ দৃশ্যমনোমুগ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চাদরে ঢাকা প্রকল্পটিতে ঝর্ণার পানি আছড়ে পড়েছেচিকচিক বালিতে যেন সকালের মিষ্টিরোদ আলো ছড়ায় আর অস্তগামী সূর্যের লালিমাখা অনন্ত ছায়া যেন ঢেলে দেয় দিগন্ত জুড়েঅপরূপ মহামায়া স্বর্ণালী স্বপ্নের মতোই বর্ণালী শোভা ঘেরা সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটন২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন  করেনএখানে এলেই মহামায়া মনমোহনীরূপ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা শত শত পর্যটকের একটাই কথা এত চমৎকার মীরসরাইয়ে হবে কখনো কেউ ভাবতেও পারেনিএত চমৎকার দৃশ্য সবারই মন জুড়াবে দূর থেকে দেখা যায় প্রায় পাহাড়সম বাঁধউভয় পাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়বাঁধে উঠতেই...! আহ, কি অপরূপ শোভাবাঁধের ধারে অপেক্ষমান সারি সারি ডিঙি নৌকো আর ইঞ্জিনচালিত বোট১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের লেক কেবল সোভা ছড়ায়পাহাড়ের কোল ঘেঁষে স্বচ্ছ পানিতে তাকাতেই দেখা যায় নীল আকাশপূর্ব-দিগন্তের সারি পাহাড়ের বুক চিরে যেতে যেতে এক সময় হারিয়ে যেতে মন চাইবে কল্পনায়! এ সময় যদি প্রিয় মানুষটি পাশে থাকে তাহলে তো কথাই নেই! পরিবার-পরিজন নিয়ে গেলেও নেই মানাকিছু দূরেই দেখা যাবে পাহাড়ের কান্নাঅঝোরে কাঁদছেঅথচ তার কান্না দেখে নিজের কাঁদতে ইচ্ছে হবে নাউপরন্তু কান্নার জলে গা ভাসাতে মন চাইবেতার পূর্বে যেখানে লেকের শেষ প্রান্ত সেখানেও বইছে ঝর্ণাধারামাঝপথে থেমে গিয়ে পাহাড়চূড়ায় উঠে নিজেকে ধন্য করতে পারেনকেননা, সেখান থেকে দেখা মিলবে দূরের পথএক কিলোমিটার দূরের মহাসড়ক, তার অর্ধেকের রেলপথ, ট্রেনের ছুটে চলা, কৃষাণীর ধান মাড়ানো, কৃষকের ফলন, কিশোরের দুরন্তপনা; সব-সবই দেখা মিলে চূড়া থেকে

১১ দিনেই রিচার্ডের ডায়াবেটিস নির্মূল, অভাবনীয় ডায়েট


বৃটেনের রিচার্ড ডটি (৫৯) নামের এক ব্যক্তি বেশ অল্প ক্যালোরিসম্পন্ন খাবার খেয়ে ১১ দিনেই ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেয়েছেনতার ডায়েট চার্টটিও দিয়েছেনযা যা খেতেন, তার তালিকা একেবারেই ছোটডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা কখনও সম্পূর্ণ নির্মূল হয় নাএমন প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়েছেন রিচার্ডমানুষ শরীর থেকে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে বিভিন্ন ডায়েট পরিকল্পনা করেকিন্তু তিনি প্রায় অভুক্ত থাকার ডায়েটেই নিরোগ শরীর পেলেনরিচার্ড লম্বায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি ও তার ওজন ৬৭ কেজিরুটিনমাফিক স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করান তিনিশেষবার যখন পরীক্ষা করালেন, ফলাফলে রীতিমতো চমকে উঠলেন তিনিরিপোর্টে জানা গেলো, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনিরিচার্ডের বংশে কারও ডায়াবেটিস ছিল নাতার ওজনও অতিরিক্ত নয়তিনি সবসময় সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেনজীবনে কখনও সিগারেট স্পর্শ করেননিএতোসব সত্ত্বেও ডায়াবেটিস ধরা পড়লে, যে কারও চোখই কপালে উঠবেরিচার্ডেরও তাই হলোতিনি রীতিমতো কিংকর্তব্যবিমূঢ়ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেতে এবার শুরু হলো তার নিরন্তর প্রচেষ্টাইন্টারনেটে সমাধান খুঁজলেননিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের তৈরি করা একটি স্বল্প ক্যালোরিসম্পন্ন ডায়েটের সন্ধান পেলেন তিনিওই বিজ্ঞানীদের দাবি, এ ডায়েট অনুসরণে ৮ সপ্তাহেই ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভবওই ডায়েটের মধ্যে ছিল ৬০০ ক্যালোরির মিল্ক শেক ও স্যুপ এবং ২০০ ক্যালোরির সবজিআর দিনে ৩ লিটার পানি পানএ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআইরিচার্ড জানান, একটা স্যুপ, দুটো শেক আর সবুজ শাক-সবজির খেয়ে বেঁচে থাকাটাকে প্রথম দিকে বেশ দুঃসাধ্য কাজ মনে হয়েছিল তার কাছেতবে তিনি হাল ছাড়লেন নাটানা ১১ দিন এ ডায়েট অনুসরণ করলেনঅকল্পনীয় হলেও সত্যি! তার রক্তে সুগারের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে গেলোঅর্থাৎ, নন-ডায়াবেটিক লেভেলে নেমে আসলো ব্লাড সুগারএ সময়টায় রিচার্ডের ওজন কমেছিলএরপর তিনি ফের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে দেখলেন তার শরীর থেকে ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছেদীর্ঘদিন পরও তিনি একেবারেই ডায়াবেটিস মুক্তআর ওজনটাকে তিনি ৫৭ কেজির মধ্যেই ধরে রেখেছেনরিচার্ড ডটির এ সাফল্য নিঃসন্দেহে বিশ্বের কোটি কোটি ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষকে নতুন পথের সন্ধান দেবেএকই বা কাছাকাছি পথ অনুসরণ করে অনেকেই হয়তো নিরোগ জীবন ফিরে পাবেন