হাঁটাহাঁটি স্তনক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

যেসব নারীর ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে গেছে, তাঁরা যদি দৈনিক এক ঘণ্টা করে হাঁটেন, তবে তাঁদের স্তনক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। আজ শুক্রবার বিবিসির অনলাইনের খবরে এ কথা জানানো হয়।
খবরে বলা হয়, ‘ক্যানসার এপিডেমিওলজি, বায়োমেকারস অ্যান্ড প্রিভেনশন’ নামের একটি সাময়িকীতে এ-সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণার জন্য ১৯৯২-৯৩ সালের দিকে ৯৭ হাজার ৭৮৫ জন নারীর ওপর জরিপ করে র্যাম্বলার্স নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ওই নারীদের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করে আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি। এদের মধ্যে ৭৩ হাজার ৬১৫ জন নারীর বয়স ছিল ৫০ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। এসব নারীকে তাঁদের স্বাস্থ্যসম্পর্কিত বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রশ্নের মধ্যে ছিল হাঁটা, সাঁতার কাটা, অ্যারোবিকসের মতো শারীরিক কসরতের পেছনে তাঁরা কতটা সময় ব্যয় করেন আর টেলিভিশন দেখা ও বই পড়ায় কতটা সময় অতিবাহিত করেন। ১৯৯৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে দুই বছর পর পর আবারও এই একই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় তাঁদের।
এ গবেষণায় দেখা যায়, যেসব নারী প্রতি সপ্তাহে সাত ঘণ্টা করে হাঁটেন, তাঁদের স্তনক্যানসারের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ কমে যায়।
গবেষক দলটির প্রধান ডা. অল্পা প্যাটেল জানান, হাঁটাহাঁটি ছাড়াও বেশি বেশি শারীরিক পরিশ্রমসাধ্য কাজে এই ঝুঁকি আরও কমতে পারে।
স্তনক্যানসার ক্যাম্পেইনের প্রধান নির্বাহী ব্যারোনেস ডেলিথ মরগান বলেন, এ গবেষণায় এটাই প্রমাণিত যে জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই স্তনক্যানসার মোকাবিলায় বড় ধরনের সাফল্য আসতে পারে।
পরীক্ষা করেছেন তো?

স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে ধীরে ধীরে। তবু সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হওয়ায় জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে এটি। তাই প্রতি মাসে একবার নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করতে হবে। ২০ বছর বয়স থেকে এ পরীক্ষা করা উচিত। আর প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করার প্রথম ধাপ নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করতে জানা।
স্তন ক্যানসারের প্রথম উপসর্গ স্তনে বা বগলে চাকা। প্রাথমিক অবস্থায় ৯৫ শতাংশ রোগীর স্তনের চাকায় কোনো ব্যথা থাকে না। অন্য কোনো উপসর্গ না থাকায় বেশির ভাগ রোগীই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর দেরি করে ফেলেন। তত দিনে স্তনের চাকা বড় হয়ে যায়, স্তনের ওপরের ত্বক ও বগলের গ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়ে।

নিজে কীভাবে স্তন ক্যানসার পরীক্ষা করবেন

এই পরীক্ষা করতে সময় লাগে ১৫ মিনিট। প্রয়োজন একটি নিরিবিলি ঘর ও বড় আয়না। ঋতুচক্র শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এ পরীক্ষা করলে সবচেয়ে ভালো হয়। কারণ, সে সময় স্তন কিছুটা হালকা থাকে। মেনোপজ হয়ে গেছে কিংবা জরায়ুর অস্ত্রোপচার হওয়া নারীরা মাসের যেকোনো দিন এ পরীক্ষা করতে পারেন। তবে মনে রাখার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন।


আয়নার সামনে

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পর্যাপ্ত আলোয় কাপড় সরিয়ে নিজেকে ভালোভাবে লক্ষ করতে হবে। প্রথমে দুই বাহু দেহের দুই পাশে ঝুলিয়ে দাঁড়াতে হবে। তারপর দুই বাহু মাথার ওপর উঁচু করতে হবে। এবার দুই হাত কোমরে চেপে দাঁড়াতে হবে, যাতে বুকের মাংসপেশি টানটান হয়। হালকা করে স্তনের বৃন্ত চেপে দেখতে হবে।



লক্ষ করার বিষয়

 স্তনের আকার-আকৃতি ও রঙের পরিবর্তন আছে কি না।
 স্তনের ত্বক কমলার খোসার মতো পুরু হয়ে আছে কি না।
 স্তনের বৃন্ত ভেতরে ঢুকে গেছে কি না।
 স্তনের বৃন্ত থেকে নিঃসৃত তরলের রং কী?


হাত দিয়ে পরীক্ষা করা

বিছানায় শুয়ে ও গোসলের সময় সাবান মেখে দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে স্তন পরীক্ষা করতে হবে। ডান স্তন পরীক্ষা করার সময় ডান হাত মাথার ওপর রেখে বাঁ হাত ব্যবহার করতে হবে এবং বাঁ স্তনের জন্য বাঁ হাত মাথার ওপর রেখে ডান হাত দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। মাঝের তিন আঙুল ব্যবহার করতে হবে। প্রথমে একটু হালকা চাপ, পরে আরও একটু ভারী চাপ এবং তৃতীয় পর্যায়ে বেশ জোরে চাপ দিয়ে স্তন টিস্যু-সংবলিত পুরো এলাকা পরীক্ষা করতে হবে। স্তন টিস্যুতে চাপ রাখা আঙুলের প্যাড (ঘুর্ণমান লাটিমের মতো) একটি অক্ষের ওপর কয়েকবার করে ঘুরিয়ে অনুভব করতে হবে। আয়নায় পর্যবেক্ষণ ও হাত দিয়ে পরীক্ষা করে যেকোনো পরিবর্তন ও চাকা লক্ষ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, এ রোগের প্রথম শনাক্তকারী কেবল আপনি নিজেই হতে পারেন।
 লেখক: অধ্যাপক, মেডিকেল অনকোলজি, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

Prothom alo

ট্যাটুতে ক্যান্সারের ঝুঁকি

ট্যাটুতে ব্যবহৃত কালি রক্তের সাথে মিশে ক্যান্সারের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। ট্যাটুর কালিতে থাকা বিষাক্ত পদার্থ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন রক্তপ্রবাহের মধ্যে মিশে যাওয়া কালির বিষাক্ততা মানবদেহে কিডনির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যহত করে। ট্যাটু করতে ব্যবহৃত কালিতে ক্যান্সার উৎপাদন করে এমন সব পদার্থ সণাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকরা। ইংল্যান্ডের পাবলিক হেল্থ জানিয়েছে কোন কোন কালিতে কোবাল্ট ও পারদের মত ধাতু পাওয়া গেছে। ধূমপান এবং সানবাথ প্রোডাক্টের মত ট্যাটুর ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানীরা নীতিমালা আরোপের দাবি জানিয়েছেন। ব্রাডফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর স্কিন সাইন্সের পরিচালক ডেসমন্ড টোবিন সানডে টাইমসকে বলেন, ট্যাটুর কালির ব্যাপারে কোন নিয়মকানুন নেই জেনে তিনি রীতিমতো স্তম্ভিত। প্রাপ্তবয়স্ক ২০ শতাংশ বৃটিশদের শরীরে ট্যাটু রয়েছে। গত মাসে ট্যাটু ইন্ডাষ্ট্রির জন্য পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড নতুন নিয়ম কানুন প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ট্যাটু কাজে ব্যবহৃত যেসব কালি বেচাকেনা হয় যেগুলোতে অনেক সময় দেখা যায় ওই প্রডাক্ট সম্পর্কে কোন তথ্যই উল্লেখ থাকে না। গবেষকরা লাল কালির মধ্যে পারদ এবং নীল ও সবুজ কালির মধ্যে কোবাল্ট সণাক্ত করেছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। কোপেনহেগেন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ডার্মেটোলজি বিভাগের প্রফেসর জর্গেন সিরাপ তার গবেষণায় পেয়েছেন, ইউরোপে বহুল ব্যবহৃত ২১ টি কালির মধ্যে ১৩ টি কালিতেই ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ পাওয়া গেছে। কালো রংয়ের কালি তৈরীর জন্য বেনজোপাইরিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় যা স্কিন ক্যান্সারের জন্য দায়ী।
Manabzamin

ভা লো থা কু ন কোমরে ব্যথা হলেই কিডনিতে পাথর নয়

কোমরের পেছন দিকে ব্যথা হলে বেশির ভাগ মানুষই প্রথম ভাবেন, কিডনিতে পাথর হলো না তো? কেবল কোমরে ব্যথাই এই রোগের লক্ষণ নয়।স্বাভাবিক প্রস্রাবেও এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা থেকে পাথর হতে পারে, যেমন: ক্যালসিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টাল ইত্যাদি। আমাদের শরীর বিপাক ক্রিয়া ও বর্জন পদ্ধতির মাধ্যমে এসব উপাদান প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেয়। কোনো কারণে এসব উপাদান বেশি তৈরি হতে থাকলে বা প্রস্রাবে এর পরিমাণ বেড়ে গেলে এগুলো ঘনীভূত হয়ে আকার ধারণ করে পাথরে পরিণত হয়। ৬৫ শতাংশ কিডনির পাথর ক্যালসিয়াম অক্সালেট, ১৫ শতাংশ ক্যালসিয়াম ফসফেট, ৩ থেকে ৫ শতাংশ ইউরিক অ্যাসিড, ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পাথর সংক্রমণের কারণে হয়।কিডনি থেকে মূত্রথলি বা মূত্রনালি অবধি যেকোনো জায়গায় পাথর হতে পারে। তবে কিছু জায়গায় পাথর হওয়ার ও আটকে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। যেমন: কিডনি ও মূত্রনালির সংযোগস্থল এবং মূত্রনালি ও মূত্রাশয়ের সংযোগস্থল।কিডনিতে পাথর থাকলেও অনেক সময় রোগীর কোনো উপসর্গ থাকে না। অকস্মাৎ আটকে গেলে বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে বা রুটিন পরীক্ষায় এটি ধরা পড়ে। সাধারণত বক্ষপিঞ্জরের ঠিক নিচে, পেটের পেছন দিকে ও পাশে ব্যথা হতে পারে। ব্যথা এখান থেকে তলপেটে, কুঁচকির কাছে ছড়িয়ে যায়। প্রস্রাবে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাতও এর লক্ষণ। জ্বর, বমি বমি ভাব, কাঁপুনি ইত্যাদি সাধারণত সংক্রমণজনিত জটিলতা হলে হয়।
ঝুঁকি: পারিবারিক ইতিহাস বা আগে পাথর হওয়ার ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষদেরই বেশি হয়ে থাকে। পানিশূন্যতা, গরম, অতিরিক্ত ঘাম ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত আমিষ, সোডিয়াম ও চিনিযুক্ত খাবার, ওজনাধিক্য, রক্তে ক্যালসিয়াম, ইউরিক অ্যাসিডের আধিক্য এর কারণ হতে পারে। কিছু বিশেষ ওষুধ কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়।
কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি এড়াতে: প্রচুর পানি পান করুন। প্রস্রাবের রং গাঢ় ও ঘন হওয়ার অর্থ আপনার পানি পান কম হচ্ছে। খাদ্যের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম গ্রহণ করুন। অকারণে ক্যালসিয়াম বড়ি খাবেন না। উচ্চ অক্সালেটযুক্ত খাবার হলো বিট, পুঁইশাক, আঙুর, মিষ্টি আলু, চা, চকলেট, সয়া, টমেটো জুস ইত্যাদি। যাঁদের একবার অক্সালেট পাথর হয়েছে, তাঁরা এসব কম খাবেন। কিডনিতে পাথর হলে সেটি যন্ত্রের সাহায্যে গুঁড়ো করা বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়। খুব ছোট পাথর অনেক সময় এমনিতে বেরিয়ে যায়। l   

মেডিসিন বিভাগ, ইউনাইটেড হাসপাতাল।
Prothom alo

একেকটি বাড়ি একেকটি কারখানা

দুটি সেলাই মেশিন নিয়ে নিজের ঘরেই ঝুট কাপড় থেকে পোশাক তৈরি শুরু করেছিলেন সৈয়দপুরের পৌর এলাকার মুন্সীপাড়ার গোলাম রাব্বানী। ওই দুটি মেশিনই তাঁর ভাগ্য খুলে দেয়। এখন তাঁর মেশিন আছে ২৫টি, মাসে আয় হয় ৩৫ হাজার টাকার মতো।
ঝুট কাপড় থেকে পোশাক তৈরি করে এভাবে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের এমন আরও ৫০০ পরিবার।
সৈয়দপুর পৌর এলাকার মুন্সীপাড়া, নয়াটোলা, হাতিখানা, মিস্ত্রিপাড়া, নতুন বাবুপাড়া, পুরাতন বাবুপাড়া, গোলাহাট, রাবেয়া মোড়, ঘোড়াঘাট, বোতলাগাড়ী, বাঁশবাড়ী, নিয়ামতপুরমহ আটকে পড়া পাকিস্তানিদের একটি বড় অংশের ঘরে ঘরে গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা। এতে একেকটি বাড়ি পরিণত হয়েছে একেকটি পোশাক কারখানায়। প্রতি কারখানায় সর্বনিম্ন দুটি থেকে সর্বোচ্চ ৪৫টি পর্যন্ত মেশিন।
জানা গেছে, পাকিস্তান আমল থেকেই সৈয়দপুরে ঝুট কাপড় থেকে নানা ধরনের পোশাক তৈরি হয়ে আসছে। তবে ২০০২ সালে রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক গ্রুপ, সৈয়দপুর নামে পোশাক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন গড়ে ওঠার পর এর পরিধি অনেক বেড়ে যায়।
এখানকার কারখানাগুলোতে তৈরি হচ্ছে ট্রাউজার, শর্টস (হাফ প্যান্ট), জ্যাকেট, টি-শার্ট, জিনসের প্যান্টসহ নানা ধরনের পোশাক। স্থানীয় বাজারে সরবরাহের পাশাপাশি এসব পোশাক রপ্তানি হচ্ছে ভারত, ভুটান ও নেপালে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব কারখানাকে সরকার যদি নির্দিষ্ট জায়গা দিয়ে একটি পল্লি করে দেয়, তাহলে এ শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটবে এবং রপ্তানি আরও বাড়বে।
এই শিল্পে অর্থায়ন করতে এবং মালিক ও কারিগরদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে এগিয়ে এসেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ২০১১-১২ অর্থবছরে এনসিসি ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ শতাংশ সুদে ব্যবসায়ীদের জন্য দেড় কোটি টাকার ঋণের ব্যবস্থা করেছে।
ঝুট থেকে পোশাক
সৈয়দপুরের ব্যবসায়ীরা পোশাক তৈরি করতে ঢাকার মিরপুর, কালিগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানের পোশাক কারখানাগুলো থেকে ঝুট কাপড় কিনে আনেন। পাশাপাশি সুতা, বোতাম, ইলাস্টিক, প্যান্টের পকেট বানানোর স্টিকার, পুরোনো সেলাই মেশিনও সংগ্রহ করেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঝুট কাপড় ও উপকরণসমূহ কেনা হয় কেজি হিসেবে। এর মধ্যে প্রতি কেজি ব্লেজারের ঝুট ৫০ থেকে ১৫০, জ্যাকেট তৈরির ঝুট ১০০ থেকে ১৫০, গ্যাবার্ডিন প্যান্টের ঝুট ৮০ থেকে ১৫০, জিনসের ঝুট ৭০ থেকে ১৫০, জিপার ৮০ থেকে ১০০, সুতা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে কেনা হয়।
রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক গ্রুপের সভাপতি আকতার হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব ঝুট চার-পাঁচ হাত ঘুরে আমাদের কাছে আসে। সরাসরি গার্মেন্টস থেকে কিনতে পারলে আরও কমে কিনতে পারতাম।’
ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরও বাচ্চাদের জ্যাকেট তৈরি করা যেত ১০০ টাকায়। এখন খরচ হয় ১৫০ টাকা। বড়দের জ্যাকেট তৈরিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ পড়ে।
ভারত ও ভুটানে রপ্তানি
ভারতে গত রমজানে ১৪ হাজার ৫০০ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছেন রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান। আগের মাসে দুই হাজার ৯৫০ ডলার মূল্যের ট্রাউজার, শর্টস ও টি-শার্ট ভুটানে রপ্তানি করেন তিনি।
তবে সৈয়দপুরের ৫০০ ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ছয়টির রপ্তানির লাইসেন্স আছে। এসব লাইসেন্স ব্যবহার করে বছরে চার লাখ ডলারের এবং ঢাকা ও রংপুরের কয়েকজন ব্যবসায়ীর লাইসেন্সে আরও দুই লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।
মতিয়ার রহমান বলেন, ‘ভারত থেকে ৫০ হাজার পিস পোশাক আমদানির ঋণপত্র (এলসি) পাঠাল। আমার কারখানায় ১২ হাজার পোশাক হয়, আমি আরও পাঁচটা কারখানা থেকে পোশাক নিয়ে ৫০ হাজার পোশাক পাঠিয়ে দিলাম। আর পোশাক সরবরাহকারী অন্য কারখানাগুলোকে পোশাকের পরিমাণ অনুযায়ী টাকা দেওয়া হলো।’
বেশির ভাগ রপ্তানির কার্যাদেশ আসে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে। আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় থেকেও কার্যাদেশ আসে।
তবে সৈয়দপুরের ব্যবসায়ীরা অনেক সময়ই রপ্তানির নামে কিছু কারসাজি করেন বলেও শোনা যায়। যেমন, ১১ লাখ রুপির পোশাক রপ্তানির এলসি এলেও রপ্তানি হয় ১৫ লাখ রুপির।
মজুরিও কম নয়
বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, একটি ট্রাউজার তৈরির মজুরি ২০ টাকা। দিনে একজন কারিগর ১০ থেকে ১২টি ট্রাউজার তৈরি করতে পারেন। সেই হিসাবে তাঁর মজুরি অন্তত ২০০ থেকে ২৪০ টাকা পড়ে, আর মাসে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা।
আবার একজন কারিগর বড় জ্যাকেট তৈরি করে মজুরি পান ১৫০ টাকা। দিনে বানাতে পারেন চারটি। অর্থাৎ তাঁর প্রতিদিনের মজুরি ৬০০ টাকা, মাসিক আয় ১৮ হাজার টাকার মতো।
সৈয়দপুরে ঝুট কাপড়ের তৈরি পোশাকশিল্প
৫০০ পরিবার ঝুট কাপড়ের পোশাক তৈরি করে ইতিমধ্যে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে
৬ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় বছরে; যা নেয় ভারত, ভুটান ও নেপাল। আর স্থানীয় বাজারে নিয়মিত সরবরাহ হয়
১.৫ কোটি টাকার ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন
৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত একজন শ্রমিক আয় করতে পারেন কাজভেদে
 তৈরি হয় ট্রাউজার, শর্টস (হাফপ্যান্ট), জ্যাকেট, টি-শার্ট, জিনসের প্যান্টসহ নানা ধরনের পোশাক
 ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কারখানাগুলোর জন্য সরকার একটি পোশাকপল্লি তৈরি করে দিলে এ শিল্পের আরও বিকাশ ঘটবে ও রপ্তানি বাড়বে

prothom alo

শূন্য থেকে কোটিপতি

শুরু করেছিলেন শূন্য হাতে। কাজ করতেন অন্যের কারখানায়। বগুড়ার আজিজার রহমান ওরফে মিলটন আজ সাতটি কারখানার মালিক। সেখানে কাজ করছেন ২০ প্রকৌশলী-কর্মকর্তাসহ ৭০০ শ্রমিক। সাশ্রয়ী দামের কৃষি যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে আজিজার আজ ‘কৃষকবন্ধু’।আজিজার সম্পর্কে বগুড়ার ব্যবসায়ীদের অনেকে বলেন, তাঁকে দেখে আমরা কাজের অনুপ্রেরণা পাই।আজিজার সহায়-সম্পত্তি, জমি-গাড়ি করেছেন। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে সেই আগের মানুষটিই আছেন। শহরের নামী এলাকায় জমি থাকা সত্ত্বেও তিন ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন কারখানার ভেতরেই।আজিজার বলেন, ‘নিজের পরিশ্রম আর চেষ্টায় এত দূর এসেছি, ভাবতে অবাক লাগে। আবার কৃষি ও কৃষকের জন্য কিছু করতে পারার আনন্দে বুকটা ভরে ওঠে।’
সেই দিনগুলো: জন্ম শহরের দক্ষিণ কাটনারপাড়ার ছোট্ট বাড়িতে। ভাইবোন মিলিয়ে সাকল্যে সাতজন। বড় আজিজার। ভালো পরিচ্ছদ তো দূরের কথা, ছেলেমেয়েদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতেই হিমশিম খেতেন বাবা ফেরাজউদ্দিন। ১৯৭৫ সালে ফেরাজউদ্দিন প্রজেক্টর মেরামতের কাজ শেখেন। উত্তরের বিভিন্ন শহর ঘুরে এ যন্ত্র মেরামত করতেন। এতে কিছু আয় হতো। এরপর ‘বগুড়া ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে’ শিখলেন অগভীর নলকূপ মেরামতের কাজ।আজিজার তখন শিশু। স্কুলে পড়ে। বন্ধুরা পরে আসত রঙিন জামা। আজিজারের এক কাপড়েই কাটত সারা বছর। অন্যরা শহরের ‘ঠাকুরের বিরিয়ানি’ খেতে যেত, মাত্র ২৫ পয়সা জোটাতে না পেরে যাওয়া হতো না তাঁর। এভাবে এসএসসি পাস করলেন, শহরের করনেশন ইন্সটিটিউশন থেকে। সময়টা ১৯৮৫ সাল। টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারলেন না কলেজে। বাবার সঙ্গে কারখানায় শ্রমিক বনে গেলেন আজিজার। অচল যন্ত্রকে সচল করার কাজ করতে হতো তাঁকে। ছোট্ট কচি হাতে ঘা-ফোসকা পড়ে যেত। সারা মাস পর মজুরি মোটে ৭০০ টাকা। দুই টাকা বেশি রোজগারের আশায় করতেন ওভারটাইম। একটু বিশ্রাম নিলেই সুপারভাইজারের ধমক।

সংগ্রামের শুরু: এভাবেই কেটে যায় কৈশোর। একসময় যন্ত্রাংশ মেরামতে হাত পাকল। একদিন নিজেই একটা লেদ যন্ত্র বসানোর কথা ভাবলেন।

বাড়িতে এসে নিজের ইচ্ছার কথা জানালেন মাকে। মা শেষ সম্বল গয়না বেচে দিলেন কিছু টাকা। ছোট বোন দিলেন তাঁর জমানো কিছু। এভাবে ১৯৮৯ সালে ৩০ হাজার টাকায় লেদ যন্ত্র কিনে বসালেন বগুড়া শহরের রেলওয়ে মার্কেটে। সারা দিন অন্যের কারখানায় কাজ করে ঘরে ফিরে মধ্যরাত অবধি কাজ করতেন নিজের কারখানায়।

হাড়কাঁপানো শীতে একখানা গরম কাপড় কেনার জন্য ৫০০ টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মরার লেদটা বিকল হয় ঠিক তখনই। আজিজারের আর শীতের কথা মনে থাকে না। ওই টাকায় যন্ত্রাংশ কিনে ঠিক করেন লেদটি।

পরের বছর চাকরি ছেড়ে দিয়ে মন দিলেন নিজের কারখানায়। মেরামতের কাজ বাদ দিয়ে ভাবলেন নিজেই কিছু তৈরি করার কথা। তখন থেকে শুরু হলো তাঁর উৎপাদনমুখী শিল্পের যাত্রা। ১৯৯০ সালে বিসিক থেকে ক্ষুদ্র প্রকৌশল ঋণ হিসেবে একটা আধুনিক লেদ ও ড্রিল যন্ত্র পেলেন, সঙ্গে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। ছয় মাসের মধ্যে সেই টাকার বেশির ভাগই সংসারের ধারদেনা মেটাতে ব্যয় হয়ে গেল।

অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে লেদে সেচ যন্ত্রের পাম্প তৈরিতে লেগে পড়লেন। নাম দিলেন ‘মিলটন পাম্প’। দিনে একটা করে পাম্প বানাতে পারতেন। খরচ পড়ত তিন হাজার টাকা। বেচতেন দুই হাজার টাকা লাভে। প্রথম থেকেই ফাটাফাটি বাজার পেল তাঁর পাম্প।

পাঁচ বছরের মাথায় দিনে ২০০ পাম্প তৈরি হতে থাকে। বাজারে পাম্পের চাহিদার সঙ্গে বাড়তে থাকে ব্যবসা। নিজের কারখানার পাশাপাশি স্থানীয় আরও ২০টি লেদ কারখানার সঙ্গে চুক্তি করে পাম্প উৎপাদন করেন আজিজার। ১৯৯৭ সালে রেলওয়ে মার্কেটের পাশাপাশি বিসিকে প্লট নিয়ে পাম্প তৈরির আধুনিক কারখানা দেন।

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প: ২০০৩ সালে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়ার রুগ্ণ ও দেউলিয়া হয়ে যাওয়া শিল্প ‘ফিরোজ মেটাল ওয়ার্কস’ কিনে তা চালু করেন। এই কারখানায় দিনে বর্তমানে ৪০০ টিউবওয়েল তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় দুই হাজার রকমের কৃষি ও হালকা প্রকৌশল পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এখানে। আজিজারের চারটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে পানি তোলার সেচ পাম্প, হস্তচালিত নলকূপ, রিকশা-ভ্যান, কলের লাঙলের যন্ত্রাংশ, খোয়া-সিমেন্ট-বালু মেশানোর যন্ত্রাংশ। যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে সিমেন্ট ও সাবান কারখানার; পাটকল, তেলকল ও চিকন সেমাই কলের। তৈরি হচ্ছে সব ধরনের মোটর ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশও।

সরেজমিন: গত বুধবার বগুড়া-রংপুর মাটিডালি সড়কের পাশে শহরের বিসিক শিল্পনগরে আজিজারের কারখানায় গিয়ে দেখা যায় এক বিরাট কর্মযজ্ঞ। কারখানার এক পাশে পুরোনো লোহা-লক্করের স্তুপ। কারিগর বাদশা মিয়া জানান, এসব গলিয়ে নানা জিনিস বানানো হবে।

পাশের কারখানাটিতে তৈরি হচ্ছে নলকূপ ও সেচ পাম্প। শ্রমিকদের কেউ লেদ মেশিনে পিস্টন বানাচ্ছেন, কেউ বানানো পাম্প শেষবারের মতো মসৃণ করছেন। নারীশ্রমিকেরা পাম্প ও টিউবওয়েল রং করছেন। রংমিস্ত্রি যুবতী রানী বলেন, এখানে প্রায় ১০০ নারীশ্রমিক কাজ করছেন। সারা দিন রঙের কাজ করে একেকজন গড়ে দুই থেকে তিন শ টাকা করে রোজগার করছেন।

দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে: দেশে বাজার পাওয়ার পর ২০০৮ সাল থেকে ভারতে পাম্প রপ্তানি শুরু করেন আজিজার। তিনি বলেন, ‘রপ্তানি পণ্যের ওপর উচ্চ কর আরোপের কারণে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারিনি। ফলে রপ্তানি শুরুর ছয় মাস পর বন্ধ করে দিতে হয়।’

আজিজার তাঁর কারখানার উৎপাদিত পণ্য দেখাতে এবং কাজ শিখতে নানা দেশ ভ্রমণ করেছেন। ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, থাইল্যান্ড, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের আমন্ত্রণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় তাঁর পণ্য প্রদর্শন এবং বাণিজ্য সেমিনারে অংশ নিয়েছেন।

সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সচিব ও উপদেষ্টা আজিজারের কারখানা পরিদর্শন করেছেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে গিয়েছেন ভারতের টাটা, জাপানের জাইকা ও নেপালের সচিব পর্যায়ের প্রতিনিধি। ২০১২ সালে সারা দেশ থেকে তিনজন শিল্পোদ্যোক্তাকে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এই তিনজনের একজন মনোনীত হন আজিজার।

যন্ত্রের সঙ্গে বসবাস: শিল্পকারখানা ছাড়াও আজিজারের ৭৭ শতক জায়গার ওপর রয়েছে দুটি গুদাম, শহরের অভিজাত আবাসিক এলাকায় তাঁর রয়েছে এক একর জায়গা। কারখানার পণ্য পরিবহনের জন্য রয়েছে সাতটি ট্রাক, রয়েছে দুটি বাস ও দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি।

আজিজার বলেন, ‘কারখানার যন্ত্র আমার কাছে সন্তানের মতো। সারা রাত কারখানায় কাটিয়ে দিই। সকালে কিছুক্ষণ ঘুমাই। এসব সন্তান ছেড়ে আলিশান বাড়িতে ঘুম ধরে না, তাই যন্ত্রের সঙ্গে বসবাস করছি।’

একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে অর্জনটা কী, জানতে চাইলে আজিজার বলেন, ‘কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলে সবাই ভিড় ঠেলে একনজর আমাকে দেখতে আসেন। আর বলেন, “ওই যে মিলটন পাম্পের মালিক।” তখন নিজেকে ধন্য মনে হয়।’

বগুড়া বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম, সততা, নিষ্ঠা আর সাধনার মাধ্যমে সাফল্যকে জয় করার বড় উদাহরণ আজিজার রহমান। তিনি অন্য উদ্যোক্তাদের জন্য দৃষ্টান্ত।’

Collecton from Prothom alo

গুণাগুণ অনেক দানার বেদানা

একটা সময় অভিজাতমহলে দারুণ কদর ছিল বেদানার। তখন ফলটা এত সহজলভ্যও ছিল না। ফলের ঝুড়ির সৌন্দর্য বাড়াতে বেদানা সাড়ম্বরেই তখন জায়গা করে নিত। এখন বেদানা সহজলভ্য। প্রায় সব ফলের দোকানেই পাওয়া যায়। দেখতে সুন্দর এই ফল কি শুধু দর্শনধারী, নাকি গুণবিচারীও? জানতে চেয়েছিলাম খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক আলেয়া মাওলার কাছে। তিনি বলেন, ফলটা শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য। এতে আছে প্রচুর খনিজ। তাই যাদের রক্তশূন্যতা আছে, তাদের জন্য খুব ভালো। এ ছাড়া আছে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ ভিটামিন এ, সি, ই প্রভৃতি পুষ্টি উপাদান।


আসুন, জেনে নেওয়া যাক, কী কী রোগের বিরুদ্ধে বেদানা কাজ করে অনায়াসে।

হূৎস্বাস্থ্যের জন্য: বেদানার রস হূৎপিণ্ডের মাংসপেশিতে দ্রুত অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও হূদেরাগ প্রতিরোধেও এটি কার্যকর। এক গবেষণায় দেখা গেছে, টানা তিন মাস নিয়ম করে বেদানার রস খেলে হূৎস্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়।

ঠান্ডা-কাশিতে: ঠান্ডায় আক্রান্ত হলে বেদানার রস খেতে পারেন। যখন খুব কাবু হয়ে যাবেন ঠান্ডায়, সারা দিন ধরে একটু একটু করে বেদানার রস খেয়ে নিন। দিন শেষে পার্থক্যটা নিজেই বুঝবেন।

দাঁত সুরক্ষায়: বেদানায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দাঁতে প্লাক জমতে বাধা দেয়। এ ছাড়া মাড়ির জিনজিভাইটিস রোগ প্রতিরোধেও বেদানার ভূমিকা অপরিসীম। তাই দাঁত সুরক্ষায় বেদানা খান।

ত্বক সুরক্ষায়: বেদানা ত্বকে সুরক্ষা বন্ধনী তৈরি করে। ত্বকে নতুন কোষ উৎপাদনকারী উপাদান থাকে বেদানায়। এ ছাড়া চোখের নিচে পড়া বয়সের ছাপ দূর করতে পারে এ ফল।

হাড়ের জন্য: বেদানায় আছে পটাশিয়াম ও পলিফেনল, যা হাড় ও হাড়ের সংযোগস্থলের কার্টিলেজের জন্য খুব উপকারী। তাই নিয়মিত বেদানা খেলে অস্টিওপোরেসিসসহ হাড়ের নানাবিধ রোগ এড়ানো যায়।
Prothom alo

পৃথিবীর সুন্দরতম গল্পগুলো

ভুল থেকে শেখা
টমাস আলভা এডিসন গবেষণা করছেন, তিনি বৈদ্যুতিক বাতি উদ্ভাবন করার চেষ্টায় রত। বালবের ভেতরের তারটা কিসের হবে, তিনি সেটা নিয়ে মত্ত। একটার পর একটা ধাতু, যৌগ, সংকর দিয়ে তিনি ফিলামেন্ট বানাতে লাগলেন। দুই হাজার রকমের তার বানানো হলো। একটাও কাজে লাগল না। তাঁর সহকারী বলল, আমাদের এত দিনের চেষ্টা পুরোটাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়ে গেল। আমরা কিছুই শিখতে পারলাম না।
এডিসন বললেন, আমরা অনেক কিছু শিখেছি। শিখেছি যে দুই হাজার রকমের তার দিয়ে ভালো বৈদ্যুতিক বাতি হয় না। জীবন কী? একজন শিক্ষক তাঁর ক্লাসরুমে পড়াচ্ছেন। তিনি একটা খালি বয়াম টেবিলের ওপরে রাখলেন। তারপর তার ভেতরে ঢোকালেন কতগুলো বড় পাথরের টুকরা। বয়ামটা ভরে গেল। তিনি বললেন, ‘ছাত্ররা, দেখো তো, আর কোনো পাথরখণ্ড ঢুকবে কি না?’ ‘না, স্যার।’ ‘তাহলে বয়ামটা ভরে গেছে, কী বলো?’ ‘জি, স্যার।’ এবার শিক্ষক কতগুলো ছোট নুড়ি বয়ামটাতে ঢালতে লাগলেন। নুড়িগুলো পাথরের ফাঁকে ফাঁকে ঢুকে গেল। তিনি বললেন, ‘এবার ভরেছে। কী বলো?’ ‘জি, স্যার।’ তিনি এবার বালু ঢালতে লাগলেন। পাথর আর নুড়ির ফাঁকে ফাঁকে বালু ঢুকতে লাগল এবং বয়ামটাকে পূর্ণ করে তুলল। শিক্ষক বললেন, ‘আচ্ছা, এবার আমরা পুরো ব্যাপারটাকে উল্টো করে করি। প্রথমেই আমরা যদি বালু দিয়ে বয়ামটা পূর্ণ করে ফেলি, তাহলে কী হবে?’ তিনি বালু দিয়ে পাত্রটা পূর্ণ করলেন। তারপর আর নুড়ি কিংবা পাথর ঢোকানোর জায়গা রইল না। তিনি বললেন, ‘এ থেকে আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস শিখব। এই যে পাত্রটা দেখছ, এটা হলো আমাদের জীবন। এই যে বড় বড় পাথরখণ্ড, এগুলো হলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আমাদের পরিবার, বাবা-মা, ভাইবোন, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের শিক্ষা। আর নুড়িগুলো হলো আমাদের বিষয়সম্পত্তি, আমাদের গাড়ি-বাড়ি, আমাদের টেলিভিশন, আমাদের টেলিফোন, আমাদের বাগান। আর বালু হলো বাকি সবকিছু, আমাদের জীবনে আর যা যা করতে হয়। প্রথমেই যদি আমরা ছোট ছোট জিনিস দিয়ে জীবনটাকে ভরে ফেলি, তাহলে বড় কাজগুলো করা হবে না। কাজেই সব সময় পরিবারকে সময় দেবে, বাবা-মায়ের যত্ন নেবে, নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখবে, লেখাপড়া করবে। তারপর গাড়ি-বাড়ি, কম্পিউটার-টেলিফোন এসবের দিকে নজর দেবে।’

এক ছেলে দাঁড়িয়ে বলল, ‘স্যার, বয়ামটা এখনো ভরেনি। আপনি যদি এর মধ্যে পানি ঢালেন, পানি ভরবে।’
ঠিক তাই। তিনি পাথরখণ্ড, নুড়ি আর বালুভরা পাত্রটিতে এক কাপ কফি ঢাললেন। কফিটা পাত্রে ঢুকে গেল।
‘এই কফিটা হলো আনন্দ। মানুষের জন্য কিছু করা। সেবার ব্রত। তুমি যা-ই করো না কেন, জীবন আনন্দময়। মানুষের জন্য, মানবতার জন্য সর্বদাই কিছু না কিছু করার সময় তুমি বের করতে পারবে। মানুষের উপকারে আসতে পারবে। তাতেও তুমি অনেক আনন্দ পাবে। জীবনটাকে যত আঁটোসাঁটো মনে হোক না কেন, যতই তুমি ব্যস্ত থাকো না কেন, জীবনকে উপভোগ করো। আর যেন সবচেয়ে ভালোভাবে জীবনটাকে আনন্দপূর্ণ করে তোলা যায়, অপরের মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমে।’
আশা কোরো না, চেষ্টা করো
জন বিমানবন্দরে গেছে। তার এক বন্ধুকে অভ্যর্থনা জানাতে। বন্ধুর ফ্লাইট আসবে আরও খানিকক্ষণ পরে। জনকে অপেক্ষা করতে হবে। সে একটা চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছে। এই সময় এক ভদ্রলোক দুটো ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে এলেন। তিনি এগিয়ে গেলেন, বোঝাই যাচ্ছে, তাঁর পরিবারের দিকে। তিনি প্রথমেই একটা চার-পাঁঁচ বছরের ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, ‘বাবা, কেমন আছ?’
ছেলে বলল, ‘বাবা, আমরা তোমাকে খুব মিস করেছি।’
বাবা বললেন, ‘আমিও খুব মিস করেছি তোমাদের।’
এরপর তিনি বছর দশেকের একটা ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন। বাবা, তুমি কেমন আছ।
ভালো আছি বাবা। তুমি এসেছ, আরও ভালো থাকব।
এরপর তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলার কোলের বাচ্চাকে নিজের কোলে তুলে নিলেন। চুমু দিলেন অনেক কটা।
তারপর তিনি তাঁর স্ত্রীকে আলিঙ্গন করে বললেন, ‘শেষটা কিন্তু কম নয়। এইটাই আসল। আই লাভ ইউ।’
জন তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। ভদ্রলোকের সঙ্গে তার চোখাচোখি হলো। জন সলজ্জ ভঙ্গিতে বলল, ‘আপনাদের সুখী পরিবারটিকে দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। আমি আশা করি, আমার পরিবারটাও এই রকম সুখের হবে।’
ভদ্রলোক হেসে বললেন, ‘আশা করলে হবে না, তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ডোন্ট হোপ, ডিসাইড।’

সুন্দর করে কথা বলো
এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি রোদ-ঝলমলে এক সকালে একটা সুন্দর ভবনের সিঁড়িতে বসে আছেন। তাঁর সামনে একটা কাগজে বড় বড় অক্ষরে লেখা, ‘আমি অন্ধ, আমাকে একটু সাহায্য করুন।’ মার্কেটিংয়ের একজন লোক সেই সিঁড়ি দিয়ে উঠছিলেন। তিনি দেখলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিটির সামনের হ্যাটটায় মাত্র একটা আধুলি পড়েছে।
তিনি ভবনের কাজ সেরে ঘণ্টা দুয়েক পরে নামলেন। দেখলেন, ওই একটা আধুলিই পড়ে আছে টুপিতে। তিনি তখন কাগজের বোর্ডটা হাতে নিয়ে নিজের পকেট থেকে মার্কার কলম বের করে কাগজের উল্টো পিঠে লিখলেন, ‘আজকের দিনটা খুব সুন্দর। কিন্তু আমি তা দেখতে পারছি না।’
তিনি কাজে বেরিয়ে গেলেন। ঘণ্টা দুয়েক পরে ফিরে এসে দেখলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিটির টুপিটা টাকায় টাকায় ভরে গেছে।

ওপরের গল্পগুলো ইন্টারনেট থেকে নেওয়া। উপদেশমূলক গল্প। বিউটিফুল স্টোরিস সার্চ দিয়ে আমি এসব পেয়েছি। গল্পগুলো আমার ভালো লেগেছে, তাই আমি আপনাদের সঙ্গে ‘শেয়ার’ করলাম। আমরা হয়তো আমাদের নিজেদের জীবনে এগুলো থেকে কোনো না কোনো শিক্ষা নিতে পারব।
আমাদের রাজনৈতিক নেতারা এ থেকে যেসব শিক্ষা নেবেন বলে আমরা প্রস্তুত থাকতে পারি:
১. আমরা কোনো ভুল করি না, কাজেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কোনো কিছু নেই।
২. জীবন একটা পাত্র, যেটাতে যা যা পারা যায়, সবই ভরতে হয়। ক্ষমতায় থাকার পাঁচ বছর তাই চোখ-কান বন্ধ করে খালি ভরো আর ভরো। এখন ভরার সময়। উপভোগের সময় পরেও পাওয়া যাবে।
৩. আশা করে থেকে কোনো লাভ নেই। ইঞ্জিনিয়ারিং করো।
৪. সুন্দর করে বলে কোনো লাভ নেই। বিলবোর্ড দখল করে কালো কালো ডিজাইন দিয়ে ভরে দাও। ধমকের সুরে কথা বলো।

 আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
Collection from prothom alo

কর্মজীবী নারীদের যা খাওয়া উচিত

সংসার আর চাকুরি উভয় ক্ষেত্রেই যখন বিচরণ করতে হয় নারীকে তখন তার স্বাস্থ রক্ষার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত খাবার ও ঘুম। সুস্বাস্থের জন্য তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ব্যালেন্স ডায়েট। কর্মব্যস্ত ওই সব নারীর জন্য অনুসরণযোগ্য খাবারের একটি তালিকা দিয়েছেন গবেষকরা।

১. উষ্ণ লেবুর সরবত পান করে দিন শুরু করুন। এটা শরীরের ক্ষতিকর অনেক বর্জ বের করতে সহায়তা করবে। সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।
২. কর্মব্যস্ততার মধ্যে চা আপনাকে চাঙা করতে পারে। কিন্তু খালি পেটে চা পান অ্যাসিডিটি সৃস্টি করবে। তাই, চায়ের সঙ্গে বিস্কুট বা অল্প চর্বিযুক্ত কিছু খেয়ে নিন।
৩. সকালের নাস্তা পরিপূর্ণ করুন। সকালের আলস্য আর কর্মব্যস্ততা আপনাকে অনেক সময়ই সকালের নাশতার সুযোগ দেবে না। কিন্তু এটা নিশ্চিত করুন। সকালে রুটি, ডাল, সবজীর সঙ্গে ডিম রাখতে পারেন।
৪. কৃত্রিম চিনি ব্যবহার না করে ফ্রেস ফলের জুস পান করুন। যা আপনাকে বিভিন্ন ইনফেকশন ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
৫. পরিমিত দুপুরের খাবার নিন। সালাদ, রুটি বা অল্প ভাত খেতে পারেন। যা কর্মজীবী নারীদের স্বাস্ত ভাল রাখতে অনুসরণ করা খুবই জরুরি।
৬. ক্ষুধা নিবারনের পাশাপাশি গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে কিছুক্ষণ পরপর সুষম খাবার গ্রহণ করুন। এক্ষেত্রে খেজুর, কাজু বাদাম, কাঠালের বীজ ইত্যাদী সঙ্গে রাকতে পারেন।
৭. আপনার টেবিলে এক বোতল পানি রাখুন। দিনভর কিছুক্ষণ পরপর পানি পান করুন। এটাও আপনার শরীরের বর্জ নিষ্কাশনে সহায়তা করবে।
৮. কর্মক্ষেত্রে প্রচণ্ড কাজের চাপে মাথা স্বাভাবিক রাখতে হয় সবাইকেই। এজন্য কমলা লেবু, পিচ বা মাছ ইত্যাদী খাবার নিয়মিত খান।
৯. রাতের খাবারেও হালকা উপাদান নিন। মুরগীর মাংস রুটিদিয়ে খেতে পারেন। স্যুপ ও সালাদ রাখতে পারেন রাতের খাবারের তালিকায়।
Collection form manabzamin

সেক্সের ৬ উপকারিতা

স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সেক্স বা যৌন সম্পর্কের সঙ্গে সুস্বাস্থ্যের সম্পর্ক ওতপ্রোত। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের সেক্স বিষয়ক পরামর্শদাতা ও লেখিকা ইয়ান কার্নার বলছিলেন, যৌন স্বাস্থ্যই আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের প্রতিফলন ঘটায়। আত্মমর্যাদাবোধ বাড়ানোর সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কিছু অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিকে কমিয়ে দেয় উষ্ণ দৈহিক সম্পর্ক। আর কারও মধ্যে যদি কামবাসনা ততোটা জোরালো না হয়, এর অর্থ তার কোন সমস্যা রয়েছে। ইয়ান বলছিলেন, এর অর্থ আপনি হতাশ বা বিষাদগ্রস্ত হতে পারেন, হয়তো ঠিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছেন না, কিংবা হয়তো ভীষণ মানসিক চাপে রয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইম। অবশ্যই এ বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হলে, নিচের উপকারগুলো পাওয়া যেতে পারে:
১)    আপনার হার্টকে ভাল রাখতে পারে সেক্স। কামোদ্দীপনা ও অনুভূতি যতো বেশি জোরালো, তার হার্ট ততো বেশি সক্রিয় ও বলিষ্ঠ।
২)    প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিকে কমিয়ে দেয় শারীরিক সম্পর্ক।
৩)    কর্মস্থলে নিজেকে গুটিয়ে রাখার প্রবণতা থাকে না। আগের চেয়ে বেশি বহির্মুখী ভাবধারা প্রকাশ পায় সার্বিক আচরণে। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বাড়ে।
৪)    আপনাকে দেখে আরও তরুণ, সজীব ও প্রাণবন্ত মনে হবে।
৫)    স্বাস্থ্যসম্মত সেক্স মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৬)    মস্তিষ্ককে সজাগ ও সক্রিয় করে তোলে।

Manabzamin

কিডনি সুস্থ রাখার সহজ ১০ উপায়


মানুষের শরীরের প্রধান যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ বিকল হওয়ার অর্থ তার মৃত্যু অবধারিত, তার মধ্যে কিডনি অন্যতমকিডনির যত্ন নেয়ার মাধ্যমে শরীরের যত্ন নেয়াটাও সহজ হয়ে যায়কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অর্থ শরীরের বর্জ্য ও তরল শরীরেই জমা হওয়াআর সেটা নানা ধরনের অসুস্থতায় রূপ নিতে শুরু করেজীবনের পরবর্তী কোন এক পর্যায়ে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারেক্ষতিগ্রস্ত কিডনি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিকল হয়ে মানুষ মৃত্যুবরণ করতে পারেক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণসমূহের মধ্যে ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, হাইপারটেনশন, স্থূলতা ও কিডনি বিকলের পারিবারিক ইতিহাস প্রধানত দায়ীকিডনিকে সুস্থ রাখতে এ বিষয়গুলোর প্রতিও বিশেষ নজর দিতে হবেবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী নিচে কিডনি সুস্থ রাখার কয়েকটি টিপস দেয়া হলো:
১)    একটি স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট অনুসরণ করুনএকজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে একটি ডায়েট চার্ট তৈরি করে নিন
২)    ধূমপান করবেন না
৩)    প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করুন
৪)    স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখুন
৫)    খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিনকাঁচা লবণ খাবেন না
৬)    রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
৭)    বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করবেন নাওষুধ সেবনে সুনির্দিষ্ট মাত্রা মেনে চলুন
৮)    প্রচুর পানি পান করুন
৯)    অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন
১০)    কখনও যদি কিডনির স্থানে ব্যথা অনুভূত হয়, দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

ইতিহাস গড়লেন ডায়ানা


৬৪ বছর বয়সী মার্কিন নারী ডায়ানা নিয়াড ইতিহাসে নাম লিখালেনএকটানা ৩ দিন সমুদ্রের উত্তাল পানিতে ছিলেন তিনিম্যারাথন সাঁতার দিয়ে কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পৌঁছেছেন তিনিডায়ানাই ইতিহাসের প্রথম সাঁতারু, যিনি হাঙ্গরের হামলা থেকে বাঁচতে কোন সুরক্ষা খাঁচার সহায়তা না নিয়েই সাঁতার কেটেছেনদুঃসাহসী এই নারী কিউবার রাজধানী হাভানার ইয়াট ক্লাব থেকে গত শনিবার সকালে সাঁতার কাটতে শুরু করেনপ্রথমদিকে এ সাঁতারু ভেবেছিলেন ৮০ ঘণ্টায় তিনি ১০০ মাইল বা ১৬০ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দেবেনকিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন পূরণে তার লেগেছে মাত্র ৫২ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট ১৮ দশমিক ৬ সেকেন্ডএর আগেও ৪ বার তার একই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল ঝড়ো আবহাওয়া ও জেলিফিশ হামলার কারণেদীর্ঘ পথ সাঁতার কাটার পর ক্লান্ত ও উচ্ছ্বসিত ডায়ানা বলেন, আমার কাছে ৩টি বার্তা রয়েছেপ্রথমটি হলো, আমরা কখনও হাল ছাড়বো নাদ্বিতীয়টি হচ্ছে, আপনার স্বপ্ন পূরণের পথে কখনই আপনি খুব বৃদ্ধ ননতৃতীয়ত, একজনের খেলা মনে হলেও এটি আসলে একটি দলীয় খেলাএ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভিঅদম্য ডায়ানার চোখে ছিল দুর্বার স্বপ্ন, মনে ছিল হার না মানা মনোভাবআর তা তাকে পৌঁছে দিয়েছে অসামান্য এক উচ্চতায়সারা বিশ্বের বহু মানুষ ডায়ানার এ অভিযান টেলিভিশনে প্রত্যক্ষ করেছেনতারা ফেসবুক ও টুইটারে ডায়ানাকে অভিনন্দন জানিয়েছেনএমনকি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউজ একটি টুইট-বার্তায় লিখেছে, অভিনন্দন ডায়ানা নিয়াডকেকখনও স্বপ্ন পূরণে হাল ছেড়ো নাডায়ানা যখন ফ্লোরিডার সমুদ্র সৈকতে পৌঁছান, উৎসুক জনতা তাকে ঘিরে ধরেনঅনেকেই সমুদ্রের পানিতে নেমে ও কিছুটা সাঁতার কেটে ডায়ানাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান

ভাত খাবার পর ৫ কাজ করতে মানা


পৃথিবীর কমপক্ষে তিনশ কোটি মানুষের প্রধান খাবার ভাত ৷ বাংলাদেশীদেরও প্রধান খাবারও এই ভাতস্বাস্থ্যরক্ষায় ভাত খাবার পর কিছু কাজ হতে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরানিজেকে সুস্থ্য রাখতে মেনে চলুন ওই পাঁচ পরামর্শ
১.    খাবার শেষের পর পরই তাৎক্ষণিকভাবে কোন ফল খাবেন নাএতে গ্যাসট্রিকের সমস্যা হতে পারেভাত খাওয়ার এক থেকে দুই ঘন্টা পর, কিংবা এক ঘন্টা আগে ফল খাবেন
২.    ধুমপান করবেন নাআপনি সারাদিনে অনেকগুলো সিগারেট খেলেও যতটুকু না ক্ষতি হয়, ভাত খাবার পর একটি সিগারেট বা বিড়ি তার চেয়ে অনেক বেশী ক্ষতি করবে আপনার শরীরেরভাত খাবার পর একটা সিগারেট খাওয়া আর সার্বিকভাবে দশটা সিগারেট খাওয়া ক্ষতির বিবেচনায় সমান বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা
৩.    চা খাবেন নাচায়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ টেনিক এসিড থাকে যা খাদ্যের প্রোটিনের পরিমাণকে ১০০ গুণ বাড়িয়ে তোলেফলে খাবার হজম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী সময় লাগে
৪.    বেল্ট কিংবা প্যান্টের কোমর ঢিলা করবেন নাখাবার পরপরই বেল্ট কিংবা প্যান্টের কোমর ঢিলা করলে অতি সহজেই ইন্টেসটাইন (পাকস্থলি) থেকে রেক্টাম (মলদ্বার) পর্যন্ত খাদ্যনালীর নিম্নাংশ বেকে যেতে পারে, পেঁচিয়ে যেতে পারে অথবা ব্লকও হয়ে যেতে পারেএ ধরণের সমস্যাকে ইন্টেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশন বলা হয়কেউ বেশি খেতে চাইলে আগে থেকেই কোমরের বাধন লুজ করে নিতে পারেন
৫.    স্নান বা গোসল করবেন নাভাত খাবার পরপরই স্নান করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন মাত্রা বেড়ে যায়ফলে পাকস্থলির চারপাশের রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে যা পরিপাক তন্ত্রকে দুর্বল করে ফেলবে, ফলে খাদ্য হজম হতে সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী লাগবে

ভালো ঘুমের ৭ কারণ


শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করেএর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুনিদ্রাবয়সভেদে ঘুমের সময়ের তারতম্য হয়একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্যসুস্থ, স্বাভাবিক জীবনযাপনে সুনিদ্রার কোন বিকল্প নেইদীর্ঘদিনের অনিদ্রা বা অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস মানুষকে ধীরে ধীরে এমন একটি স্তরে নিয়ে যায়, যেখান থেকে ফিরে আসতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়তাই প্রথম থেকেই সচেতন হওয়া ভালকারও কারও ঘুমের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছেসে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে তবেই সুনিদ্রা নিশ্চিত করতে হবেএ জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি টিপস দিয়েছেনসেগুলো তুলে ধরা হলো:
    প্রতি রাতে একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া ও ঘুমানোর অভ্যাস করা উচিতভোরেও একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ঝরঝরে রাখবে শরীর ও মনকেরাতে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া ও ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসে শরীর যতটা সতেজ হয়, তা আর কোন অভ্যাসে বোধ হয় হয় নাতার সঙ্গে তো শরীরচর্চা, হাঁটা, নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস ইত্যাদি রয়েছেইশোবার ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘুম না এলে, হাল্কা কোন কাজ করুন, যাতে ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটেবই পড়তে পারেনএকটু ক্লান্ত হলে, এমনিতেই ঘুম চলে আসবে
   খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজর দিতে হবেপেট খালি রেখে বা একেবারে ভরপেট খেয়ে ঘুমাতে যাবেন নাকারণ, দুই ক্ষেত্রেই অস্বস্তিতে ঘুম ভাঙাটা স্বাভাবিকঘুমানোর আগে নিকোটিন, ক্যাফেইন (চা, কফি ইত্যাদি) জাতীয় কিছু গ্রহণ করার অভ্যাসে ঘুমের চরম ব্যাঘাত ঘটেঅ্যালকোহল তো কখনও নয়তাই এগুলো পরিহার করা বাঞ্ছনীয়রাতে যাতে ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে যেতে না হয়, তাই ঘুমানোর ঠিক আগে পানি পান না করাই ভালআগে তরল জাতীয় কিছু পান করলেও, তা পরিমাণ বুঝে পান করা উচিত
    ঘুম না এলে, ১০০ থেকে ১ পর্যন্ত উল্টো গোনা আরম্ভ করতে পারেনতবে তার সঙ্গে মস্তিষ্ক ও পুরো শরীরকেও শিথিল হওয়ার নির্দেশ দিতে হবেঅর্থাৎ, মেডিটেশনের মাধ্যমে নিজের ঘুমকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনঘুমানোর আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করাও ভাল অভ্যাসবেডরুমে পছন্দের রঙের হাল্কা ডিমলাইট জাতীয় বাল্ব লাগানো যেতে পারেঘুমানোর আগে টেলিভিশন দেখা বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মোবাইল, আইফোন, আইপ্যাড জাতীয় ডিভাইস) ব্যবহারের অভ্যাস ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়একই খাটে দুজন ঘুমালে, উভয়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখুনএমন বিছানায় ঘুমাতে হবে যা শরীরের জন্য পরবর্তী সময়ে কোন হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়নরম ফোমের ম্যাট্রেস পরিহার করাই ভালএ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে
   দিনের বেলায় ঘুমের সময়টাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে১০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি না ঘুমানোই ভালতবে খাটে শুয়ে বিশ্রাম নেয়া যেতে পারেকারণ, দিনে ঘুমানোর অভ্যাসে রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে
    প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রম হয়, এমন কিছু কাজ করুনব্যায়াম, হাঁটা, জগিং, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা, বাগান করার অভ্যাসগুলো আপনার মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা আনবেপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি খরচে শরীরও ক্লান্ত হয়ে পড়বেআর ঘুমটাও হবে প্রগাঢ়
  মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করুননিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ওপরে বর্ণিত অভ্যাসগুলো রপ্ত করে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করুনকারণ, রাতে আপনি কিছুই করতে পারবেন নাতাই দুশ্চিন্তার বোঝা টেনে লাভ তো শূন্যসেটা মনকে বোঝানজীবনটাকে সুশৃঙ্খলভাবে গুছিয়ে যাপন করার বিকল্প নেইগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর তালিকা তৈরি করে একটা একটা করে সম্পাদন করুনবাকি থাকা কাজগুলো নিয়ে ভাবার কোন প্রয়োজন নেইপরের দিনের তালিকায় সেগুলো সংযোজন করুনএভাবে একটি করে দিন পার করুনব্যস্ত থাকুনদরকার হলেই কাজের ফাঁকে একটি করে ছোট বিরতি নিনএকটু বিশ্রাম নিতে পারেনভোরে উঠতে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া অ্যালার্মের সাহায্য না নেয়াই ভাল
   এতকিছুর পরও যদি নিদ্রাহীনতার সমস্যা থেকে পরিত্রাণ না পান, তবে একজন ভাল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুনএকান্ত বাধ্য না হলে ঘুমানোর জন্য ওষুধ সেবন করবেন নাআর চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করলেও, তা অভ্যাসে পরিণত করবেন নাকারণ, প্রাকৃতিকভাবেই মানুষ এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে
Collection from Manabzamin

পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত মধুটিলা ইকোপার্ক-মহামায়া


প্রকৃতি সান্নিধ্য পেতে কার না ভালোলাগেতাইতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে অনেকেই ছুটছেন প্রকৃতির কাছেএ সংক্রান্ত আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন- শেরপুর থেকে মো. মেরাজ উদ্দিন জানান, পবিত্র ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড়ে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের মধুটিলা ইকো পার্ক মুখরিতপ্রকৃতির সান্নিধ্যে ছুটে এসেছেন অনেকেদেশের উত্তর সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড় অবস্থিতএ সৌন্দর্যকে ঘিরে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য নালিতাবাড়ীর মধুটিলায় বনবিভাগ গড়ে তুলেছে চমৎকার এক ইকোপার্কএ ইকোপার্কে আসলে প্রাণ জুড়িয়ে দেয় পাহাড়ি সুন্দর ও শান্ত পরিবেশএখানে একবার আসলে বারবার মন টানে এ সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে
বাংলাদেশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি গারো পাহাড়বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন শেরপুরের তিনটি উপজেলার বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে অনুচ্চ এই পাহাড় শ্রেণীআরো আছে হিজল-তমাল, শাল-শেগুনের শ্যামল ছায়ায় ঢাকা নয়ানাভিরাম বনাঞ্চলতারই মাঝে গারো-কোচসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর বাড়িঘরশান্ত প্রকৃতির সেই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য বনবিভাগ এখানে গড়ে তুলেছে চমৎকার এক ইকোপার্কজেলার নালিতাবাড়ী উপজেলাধীন গারো পাহাড়ের মধুটিলায় ৫শ একর বনভূমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই ইকোপার্কপ্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে নয়নকারা একটি গেইট, রেস্ট হাউজ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, পানির লেক, শিশু পার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা, প্যাডেল বোর্ড, হাতি, কুমির, হরিণ, বাঘ, সিংহসহ বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য, স্টার ব্রিজ ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণপর্যবেক্ষন টাওয়ারের উপরে উঠলে সমস্ত গারো পাহাড় অতি সহজেই চোখের সামনে ভেসে উঠেদেখা যায় ভারতীয় সীমান্তবর্তী অঞ্চলকেআর এ সৌন্দর্যকে উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু বেড়াতে আসেন এখানেবিশেষ করে শুকনো মৌসুমে প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় করেন এখানেসৌন্দর্য পাগল মানুষেরা প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটিয়ে যান কিছুটা সময়নয়নকাড়া এ সৌন্দর্য বারে বারে পিছু টানে তাদেরকেতাই এখানে আসলে কেউ সহজে যেতেই চায় নাকেউ কেউ সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছরই বেড়াতে আসেন এখানেশুকনো মৌসুমে ছুটির দিনে বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারে এখানে দর্শনার্থীদের ঢল নামেদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত বাস-কোচ মাইক্রোবাস যোগে হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে আনন্দ উপভোগ করতে আসছেনদর্শনার্থীদের দাবি এ ইকোপার্কটিকে আরো উন্নয়ন করা হলে এটি দেশের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে  ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার পারভিন জানান, তার এ জায়গাটা খুব ভালো লেগেছেএই জায়গাটা ছেড়ে তার যেতে ইচ্ছে করছে নাশেরপুর জেলা শহরের গৌরীপুরের শেখ শাহরিয়ার আহম্মেদ শাকির জানান তারও এ জায়গাটা খুব ভালো লেগেছেতবে সে আরো সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার দাবি জানায়জামালপুর থেকে আগত শিক্ষক জাহঙ্গীর আলম জানান, এ ইকোপার্কটিকে আরো উন্নয়ন করে দেশের প্রথম শ্রেণীর পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভবআমরা সরকারের কাছে এটিকে আরো উন্নয়ন করার জন্য দাবি জানাইএদিকে এই ইকোপার্ককে ঘিরে স্থানীয় লোকজন তাদের আয়ের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেতারা এখানে স্থানীয় উপজাতীয়দের হাতের তৈরি পণ্যের দোকান সাজিয়ে তুলছেকয়েকজন দোকানি জানান, তারা এখানে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে সুখে-শান্তিতে সংসার চালাচ্ছেশিশু করিম জানালো, সে শুধু পানি বিক্রি করে মাসিক প্রায় ৩ হাজার টাকা আয় করে
দর্শনার্থীদের এই ইকোপার্কটি নজর কাড়তে সক্ষম হলেও এখানে আসার জন্য শেরপুরের ঝিনাইগাতীর তিনআনী বাজার থেকে মধুটিলা ইকোপার্ক পর্যন্ত রাস্তাটির নন্নী বাজার পর্যন্ত রাস্তার দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছেফলে যাতায়াতে দর্শনার্থীদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছেদর্শনার্থীদের দাবি দ্রুত এ সড়কটির সংস্কার করা হোকএর ব্যাপারে শেরপুর থেকে আগত শিশু শেখ সঈদ আহাম্মেদ সাবাব জানায়, তার এখানে আসতে খুব কষ্ট হয়েছেতাই তাড়াতাড়ি রাস্তাটি ভালো করা দরকারময়মনসিংহ বনবিভাগের নালিতাবাড়ী মধুটিলা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, সড়কটি উন্নয়নের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবেইতিমধ্যে এ ইকোপার্কটিকে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছেএটিকে আরো উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছেএখান থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ২৫-৩০ লাখ টাকা রাজস্ব পায়প্রতিবছর রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাচ্ছেএ এলাকার সৌন্দর্য প্রেমী মানুষের প্রত্যাশা, সৌন্দর্যে ম-িত এই ইকোপার্কটির আরো উন্নয়ন করে পরিণত করা হবে দেশের বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্রে
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) থেকে আমিনুল হক জানান, চট্টগ্রামের রূপরাণী মীরসরাইয়ের মহামায়া লেক এলাকায় এবার ইকোপার্ক ও পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য ইজারা প্রদান করা হয় মাত্র কয়েকদিন আগেইজারাপ্রাপ্ত মেসার্স আহসান ট্রেডিং ইতিমধ্যে সেখানে গেইট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যক্রম শুরু করেছেএছাড়া পাবলিক টয়লেট, পার্কিং, ফুডকোড, রেস্তোরাঁ, এবাদতখানা নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে তাই নির্মাণাধীন উন্নয়ন কাজের চলমান প্রক্রিয়ার জন্য পর্যটকরা যথার্থ বিনোদন না পেলে ও লেকের পাড়ে ও বোটে ঘুরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদের দিন বিকেল থেকে দিনভর আগন্তুকদের আনাগোনায় মুখরিত পুরো লেক এলাকাদূর থেকে শোনা যায় অপরূপ ঝর্ণার নূপুর ধ্বনি, পাহাড়িয়া সবুজ গাছের সমারোহ অতিথি পাখিদের কলতান কার না মন জুড়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ যে কেউ মুগ্ধ হয় মহামায়া প্রকল্প দেখেসে যেন সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছেঈদ পরিবার-পরিজন নিয়ে অপরূপ এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন আসছে হাজার হাজার দর্শনার্থী
চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে দেড় কিলোমিটর পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে এ স্পটের অবস্থাননীল আকাশের বিশালতার নিচে সবুজের সমারোহএ যেন প্রকৃতির লীলা খেলাদুপাশে থাকা বনাঞ্চলের দিকে তাকালে হয়তো সহজেই দেখা যায় অনেক জীব বৈচিত্র্যশেষ বিকেলের সূর্যের আলো যখন লেকে পড়ে তখন দূর থেকে মনে হয় পুরো প্রকল্পটির অপরূপ দৃশ্যমনোমুগ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চাদরে ঢাকা প্রকল্পটিতে ঝর্ণার পানি আছড়ে পড়েছেচিকচিক বালিতে যেন সকালের মিষ্টিরোদ আলো ছড়ায় আর অস্তগামী সূর্যের লালিমাখা অনন্ত ছায়া যেন ঢেলে দেয় দিগন্ত জুড়েঅপরূপ মহামায়া স্বর্ণালী স্বপ্নের মতোই বর্ণালী শোভা ঘেরা সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটন২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন  করেনএখানে এলেই মহামায়া মনমোহনীরূপ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা শত শত পর্যটকের একটাই কথা এত চমৎকার মীরসরাইয়ে হবে কখনো কেউ ভাবতেও পারেনিএত চমৎকার দৃশ্য সবারই মন জুড়াবে দূর থেকে দেখা যায় প্রায় পাহাড়সম বাঁধউভয় পাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়বাঁধে উঠতেই...! আহ, কি অপরূপ শোভাবাঁধের ধারে অপেক্ষমান সারি সারি ডিঙি নৌকো আর ইঞ্জিনচালিত বোট১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের লেক কেবল সোভা ছড়ায়পাহাড়ের কোল ঘেঁষে স্বচ্ছ পানিতে তাকাতেই দেখা যায় নীল আকাশপূর্ব-দিগন্তের সারি পাহাড়ের বুক চিরে যেতে যেতে এক সময় হারিয়ে যেতে মন চাইবে কল্পনায়! এ সময় যদি প্রিয় মানুষটি পাশে থাকে তাহলে তো কথাই নেই! পরিবার-পরিজন নিয়ে গেলেও নেই মানাকিছু দূরেই দেখা যাবে পাহাড়ের কান্নাঅঝোরে কাঁদছেঅথচ তার কান্না দেখে নিজের কাঁদতে ইচ্ছে হবে নাউপরন্তু কান্নার জলে গা ভাসাতে মন চাইবেতার পূর্বে যেখানে লেকের শেষ প্রান্ত সেখানেও বইছে ঝর্ণাধারামাঝপথে থেমে গিয়ে পাহাড়চূড়ায় উঠে নিজেকে ধন্য করতে পারেনকেননা, সেখান থেকে দেখা মিলবে দূরের পথএক কিলোমিটার দূরের মহাসড়ক, তার অর্ধেকের রেলপথ, ট্রেনের ছুটে চলা, কৃষাণীর ধান মাড়ানো, কৃষকের ফলন, কিশোরের দুরন্তপনা; সব-সবই দেখা মিলে চূড়া থেকে

১১ দিনেই রিচার্ডের ডায়াবেটিস নির্মূল, অভাবনীয় ডায়েট


বৃটেনের রিচার্ড ডটি (৫৯) নামের এক ব্যক্তি বেশ অল্প ক্যালোরিসম্পন্ন খাবার খেয়ে ১১ দিনেই ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেয়েছেনতার ডায়েট চার্টটিও দিয়েছেনযা যা খেতেন, তার তালিকা একেবারেই ছোটডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা কখনও সম্পূর্ণ নির্মূল হয় নাএমন প্রচলিত ধারণাকে পাল্টে দিয়েছেন রিচার্ডমানুষ শরীর থেকে অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে বিভিন্ন ডায়েট পরিকল্পনা করেকিন্তু তিনি প্রায় অভুক্ত থাকার ডায়েটেই নিরোগ শরীর পেলেনরিচার্ড লম্বায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি ও তার ওজন ৬৭ কেজিরুটিনমাফিক স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করান তিনিশেষবার যখন পরীক্ষা করালেন, ফলাফলে রীতিমতো চমকে উঠলেন তিনিরিপোর্টে জানা গেলো, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনিরিচার্ডের বংশে কারও ডায়াবেটিস ছিল নাতার ওজনও অতিরিক্ত নয়তিনি সবসময় সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেনজীবনে কখনও সিগারেট স্পর্শ করেননিএতোসব সত্ত্বেও ডায়াবেটিস ধরা পড়লে, যে কারও চোখই কপালে উঠবেরিচার্ডেরও তাই হলোতিনি রীতিমতো কিংকর্তব্যবিমূঢ়ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেতে এবার শুরু হলো তার নিরন্তর প্রচেষ্টাইন্টারনেটে সমাধান খুঁজলেননিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের তৈরি করা একটি স্বল্প ক্যালোরিসম্পন্ন ডায়েটের সন্ধান পেলেন তিনিওই বিজ্ঞানীদের দাবি, এ ডায়েট অনুসরণে ৮ সপ্তাহেই ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভবওই ডায়েটের মধ্যে ছিল ৬০০ ক্যালোরির মিল্ক শেক ও স্যুপ এবং ২০০ ক্যালোরির সবজিআর দিনে ৩ লিটার পানি পানএ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআইরিচার্ড জানান, একটা স্যুপ, দুটো শেক আর সবুজ শাক-সবজির খেয়ে বেঁচে থাকাটাকে প্রথম দিকে বেশ দুঃসাধ্য কাজ মনে হয়েছিল তার কাছেতবে তিনি হাল ছাড়লেন নাটানা ১১ দিন এ ডায়েট অনুসরণ করলেনঅকল্পনীয় হলেও সত্যি! তার রক্তে সুগারের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে গেলোঅর্থাৎ, নন-ডায়াবেটিক লেভেলে নেমে আসলো ব্লাড সুগারএ সময়টায় রিচার্ডের ওজন কমেছিলএরপর তিনি ফের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে দেখলেন তার শরীর থেকে ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছেদীর্ঘদিন পরও তিনি একেবারেই ডায়াবেটিস মুক্তআর ওজনটাকে তিনি ৫৭ কেজির মধ্যেই ধরে রেখেছেনরিচার্ড ডটির এ সাফল্য নিঃসন্দেহে বিশ্বের কোটি কোটি ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষকে নতুন পথের সন্ধান দেবেএকই বা কাছাকাছি পথ অনুসরণ করে অনেকেই হয়তো নিরোগ জীবন ফিরে পাবেন

ঘরে বসেই অনলাইনে টিআইএন



আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে অনলাইনে কর শনাক্তকরণ সংখ্যা (টিআইএন) নিতে হবেআর জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া টিআইএন মিলবে না
টিআইএন নিতে কর কার্যালয়ে যেতে হবে না, দেখা হবে না কর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেমূলত হয়রানি কমাতে ও ভুয়া টিআইএনের সংখ্যা কমাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)
আগামী বাজেটে সরকার এই ঘোষণা দেবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছেএমনকি বর্তমানে যাঁরা টিআইএনধারী, তাঁদেরও অনলাইনে টিআইএনের তথ্য হালনাগাদ করতে হবে
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, টিআইএন নিতে ইচ্ছুক কোনো ব্যক্তির অনলাইনের সুবিধা না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে গিয়ে অনলাইনে টিআইএন নিতে পারবেনএ জন্য প্রতিটি কর অঞ্চলে অনলাইনের সুবিধাসংবলিত সহায়তাকেন্দ্র থাকবে
বর্তমানে ১২ সংখ্যাবিশিষ্ট টিআইএন দেওয়া হয়ডিজিটাল পদ্ধতিতে ১০ সংখ্যাবিশিষ্ট টিআইএন দেওয়া হবেএ জন্য নির্দিষ্ট একটি ওয়েবসাইট তৈরির কাজ চলছেএ বিষয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) সঙ্গে এনবিআর কাজ করছে
টিআইএন পেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে লগ ইন করতে হবেআর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর (আইডি) দিলেই সব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিআইএন তথ্যসম্ভারে সন্নিবেশিত হবেটিআইএন পেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা তথ্য দেওয়ার পর অনলাইনেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যাবে টিআইএন সনদ, শুধু প্রিন্ট নিতে হবে টিআইএনধারীকেইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের তথ্য ব্যবহারের জন্য এনবিআরের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে
অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও অনলাইনে টিআইএন নিতে হবেপুরোনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যাদের টিআইএন রয়েছে, তাদের ইনকরপোরেট সার্টিফিকেট নম্বর (আইসি নম্বর) অনলাইনে সন্নিবেশ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য হালনাগাদ হয়ে যাবেএ জন্য যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করেছে এনবিআর
বর্তমানে ৩৩ লাখ টিআইএনধারী রয়েছেনএর মধ্যে মাত্র ১২ থেকে ১৩ লাখ টিআইএনধারী তাঁদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দেনকিন্তু অনেকের একাধিক টিআইএন রয়েছে